কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে। হামলায় গাড়ির সামনের আসনে থাকা এমপির চাচার পা কেটে গেছে। এ সময় আমির হামজাও মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর এমপির বাসভবনেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটিতে অতর্কিত হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত-শিবিরের সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদের তিনজনসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আমির হামজা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ চলছিল।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। এ সময় তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালির খবর পেয়ে তিনি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করেন। পরে ওসির গাড়ির পেছনে তাঁর গাড়ি ছিল। ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আমির হামজা বলেন, গাড়ির সামনে বসা তাঁর চাচার পা কেটে গেছে এবং তিনি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বক্তব্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমপির বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সম্পাদক: ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
© ২০১৬–২০২৬ ক্রাইম প্রতিদিন। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।