মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশইন করা দুই নারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ, তাদের চোখ বেঁধে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাদের কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আনসার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন দেবলছড়া বিওপির সীমান্ত এলাকা দিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর আলীনগর ইউনিয়নের বকসি টিলা এলাকায় ওই তিনজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয় বিএসএফ। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে রাখেন।
খবর পেয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ এনামুল হকের নির্দেশনায় আনসার সদস্য রশিদ মিয়া, ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়ন দলনেত্রী সুরজাহান বেগম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেতা জায়েদ আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে নিরাপদ হেফাজতে নেন।
পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাদের কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের দাবি, শনিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে বকসি টিলা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা বাংলাদেশি নাগরিক। কাজের তাগিদে কয়েক মাস আগে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।
ওসি আরও বলেন, ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের লোকজন এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুশইনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
সম্পাদক: ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
© ২০১৬–২০২৬ ক্রাইম প্রতিদিন। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।