নোয়াখালী সদর উপজেলায় প্রতিবন্ধী যুবক মো. কবির হোসেনকে (৩৫) চোর আখ্যা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার বাদ আছর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় নিহত কবিরের মরদেহ সামনে রেখে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উস্কানিদাতাদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কবির একজন প্রতিবন্ধী যুবক ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাঁকে চোর আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় পাশের নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তাঁদের অভিযোগ, কবির চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু তা না করে তাঁকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনের সময় উল্লাস করার পাশাপাশি জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের দৃশ্যও ভিডিওতে ধারণ করা হয়। দেওয়া হয় দুর্ধর্ষ চোর আখ্যা।
এ ঘটনায় ধারণ করা একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কবিরকে আহত অবস্থায় খুঁটির সঙ্গে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাঁকে ‘দুর্ধর্ষ চোর’ হিসেবে আখ্যা দিতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার পর যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এবং উস্কানিদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
মানববন্ধন থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী সন্দেহে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
সম্পাদক: ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
© ২০১৬–২০২৬ ক্রাইম প্রতিদিন। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।