নোয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাইন উদ্দিন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে এবং কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের গৌপিনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মাইন উদ্দিন কালাদরাপ ইউনিয়নের রামহরিতালুক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
সুধারাম মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯-১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে মাইন উদ্দিনের সঙ্গে রেবেকা সুলতানা ইতির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে কিছুদিন আগে স্ত্রী নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করেন মাইন উদ্দিন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নেওয়ার জন্য তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে ১ ও ২ নম্বর অভিযুক্ত তার চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা, পিঠ, বুক, কোমর ও দুই হাতে আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং চোখের নিচে দুটি সেলাই করা হয়।
এ ঘটনায় মাইন উদ্দিন সুধারাম মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তিনি নিজের ও দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মেয়েদের উদ্ধারে আইনগত সহযোগিতা চেয়েছেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
সম্পাদক: ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
© ২০১৬–২০২৬ ক্রাইম প্রতিদিন। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।