আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি- এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও কেন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন, তার দুটি কারণ জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন অলি আহমদ।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান করতে হবে’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রথম কারণ হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন অলি আহমদ।
তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় উভয়কেই মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আর সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
অলি আহমদ বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জয় বা পরাজয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান করতে হবে।
১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চান
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এলডিপি চেয়ারম্যান।
অলি আহমদের ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনসমর্থন ও দলীয় শক্তির বিচারে ১১ দলীয় জোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোট। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী না থাকলে জোটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট প্রার্থী না দিলে প্রশ্ন উঠত- ১১ দলের কোনো প্রার্থী নেই কেন।
তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের সামনে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও অবস্থান তুলে ধরা সম্ভব হবে।
বিএনপির ভালো প্রার্থী চান অলি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের বার্তা দেননি অলি আহমদ। বরং তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, ১১ দলীয় জোটের চেয়ে বিএনপি যেন একজন ভালো প্রার্থী দেয়।
এলডিপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মধ্য দিয়ে মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য।
সংসদের সংখ্যার সমীকরণে এগিয়ে বিএনপি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোটার। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী।
এর মধ্যেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করেছে। ফলে একদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদ- দুই প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে।
তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত নয়।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে
অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংসদের ভোটে শেষ পর্যন্ত কে কত ভোট পান, সেটিই হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল নির্ধারণের বিষয়। তবে রাজনৈতিকভাবে এই নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্য দিয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর অবস্থানও প্রতিফলিত হবে।
সব মিলিয়ে, জয়ের সম্ভাবনা কম- এমন হিসাব সামনে রেখেও অলি আহমদের প্রার্থী হওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে আরও আলোচিত করে তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার এই নির্বাচনে অলি আহমদ কত ভোট পান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা দৃশ্যমান হয়।
সম্পাদক: ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
© ২০১৬–২০২৬ ক্রাইম প্রতিদিন। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।