ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান Logo আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬৭২ বার পড়া হয়েছে

খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প

দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি না হওয়া খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ জুলাই বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কেডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে তারা।

সূত্রমতে, ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিমান বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাটি ভরাটের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নতুন করে ‘খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ওই এলাকায় আরও ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই সময় পিপিপির আওতায় বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর প্রতিবছরই বিমান বন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ উন্নয়ন কর্মীরা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

চীনা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চার ধরনের বাস্তবায়ন কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), নির্মাণ-পরিচালনা-হস্তান্তর (বিওটি) এবং নকশা, নির্মাণ, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অর্থায়ন সমন্বিত পদ্ধতি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত বিকল্প নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানিয়েছেন, চীনা কোম্পানি প্রথমে আগ্রহের কথা জানালে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী তারা বেবিচকের কাছে চিঠি দিয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানের মতে, যশোর বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ খুলনা অঞ্চলের হলেও দূরত্ব ও যাতায়াতের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। খুলনায় বিমানবন্দর নির্মিত হলে মোংলা বন্দর, শিল্পাঞ্চল, মৎস্য খাত এবং সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন আরও বিকশিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিমানবন্দর না থাকায় বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের খুলনায় আনতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন, মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন সম্প্রসারণেও একটি আধুনিক বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘদিনের স্থবির প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আপডেট সময় ০২:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি না হওয়া খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ জুলাই বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কেডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে তারা।

সূত্রমতে, ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিমান বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাটি ভরাটের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নতুন করে ‘খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ওই এলাকায় আরও ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই সময় পিপিপির আওতায় বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর প্রতিবছরই বিমান বন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ উন্নয়ন কর্মীরা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

চীনা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চার ধরনের বাস্তবায়ন কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), নির্মাণ-পরিচালনা-হস্তান্তর (বিওটি) এবং নকশা, নির্মাণ, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অর্থায়ন সমন্বিত পদ্ধতি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত বিকল্প নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানিয়েছেন, চীনা কোম্পানি প্রথমে আগ্রহের কথা জানালে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী তারা বেবিচকের কাছে চিঠি দিয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানের মতে, যশোর বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ খুলনা অঞ্চলের হলেও দূরত্ব ও যাতায়াতের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। খুলনায় বিমানবন্দর নির্মিত হলে মোংলা বন্দর, শিল্পাঞ্চল, মৎস্য খাত এবং সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন আরও বিকশিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিমানবন্দর না থাকায় বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের খুলনায় আনতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন, মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন সম্প্রসারণেও একটি আধুনিক বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘদিনের স্থবির প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট