ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ (জন্ম: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৪) একজন বাংলাদেশি লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মানবাধিকারকর্মী, সমাজসংগঠক ও আইনি পরামর্শক। তিনি সাংবাদিকতা, মানবাধিকার, সামাজিক সচেতনতা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। তিনি ক্রাইম প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ চাই (অমুবাচা)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ ১৯৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. নুরুল ইসলাম একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মাতা মনোয়ারা বেগম একজন গৃহিণী। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ।
শৈশব ও কৈশোর চাঁদপুরে অতিবাহিত করার পর উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় আসেন এবং পরবর্তীকালে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা, সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সমসাময়িক বিষয়াবলীর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীকালে তাঁর পেশাগত ও সৃজনশীল জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষা
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও সমাজ-রাজনীতি বিষয়ক তাঁর একাডেমিক শিক্ষা সাংবাদিকতা, কলাম রচনা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DBA) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন
পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই তিনি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সামাজিক সমস্যা, অপরাধ, মানবাধিকার, জনস্বার্থ, সুশাসন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন, নিবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করে থাকেন।
তিনি ক্রাইম প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সম্পাদনা, প্রকাশনা এবং সম্পাদকীয় নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এছাড়া তিনি মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ চাই (অমুবাচা)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায়ও তিনি বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
লেখক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ সমসাময়িক রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা, মানবাধিকার, সামাজিক সংকট, নৈতিকতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর নিবন্ধ, কলাম ও বিশ্লেষণ বিভিন্ন জাতীয় এবং অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর লেখার প্রধান বিষয়সমূহ হলো-
- সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা
- গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসন
- মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার
- সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ
- নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ
তিনি বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক বিকাশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক সাধারণ পাঠকের কাছে সহজ, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।
সামাজিক ও মানবাধিকার কার্যক্রম
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ চাই (অমুবাচা)-এর মাধ্যমে তিনি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন, মানবাধিকারবিষয়ক প্রচারণা এবং সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি প্রান্তিক, নিপীড়িত ও বিচারবঞ্চিত মানুষের জন্য আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা লাভ করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশের উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ-
- আর কত কাঁদাবে তুমি
- অপরাধ পরিসংখ্যান
- অসমাপ্ত রাজনীতি
পুরস্কার ও সম্মাননা
সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
- এফবিজেও বেস্ট অ্যাওয়ার্ড (২০২২)– সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য।
- ইন্ডো-বাংলা-নেপাল ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড (২০২৩)– সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
দর্শন ও চিন্তা
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশের মতে, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি কার্যকর হাতিয়ার।
তিনি মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে একটি উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর বিশ্বাস, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।