ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন Logo হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়া উচিত : জামায়াত আমির Logo ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের

সুবর্ণচরে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা, বাবা গ্রেপ্তার

সালাহ উদ্দিন সুমন:
  • আপডেট সময় ০৭:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫৮০ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার বাবা মো. ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ইব্রাহীম খলিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে। নিহত নাঈমও একই গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, সোমবার রাতে নাঈম তার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশের রাস্তায় নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়।

এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থাকত এবং চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। ঘটনার রাতে খাবার খেয়ে নানার বসতঘরেই ঘুমিয়ে ছিল সে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর থেকেই সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। এমনকি ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে মা কীভাবে চলেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। নাঈমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মা সুমি সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহ করেন। সকালে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

পরে তিনি নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, তদন্তের একপর্যায়ে ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে কৌশলে আটক করার পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিলকে বৃহস্পতিবার কৌশলে আটক করা হয়।থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পরবর্তীতে জানানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। শিরোনাম তৈরি করে দাও


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সুবর্ণচরে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা, বাবা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার বাবা মো. ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ইব্রাহীম খলিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে। নিহত নাঈমও একই গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, সোমবার রাতে নাঈম তার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশের রাস্তায় নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়।

এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থাকত এবং চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। ঘটনার রাতে খাবার খেয়ে নানার বসতঘরেই ঘুমিয়ে ছিল সে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর থেকেই সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। এমনকি ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে মা কীভাবে চলেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। নাঈমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মা সুমি সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহ করেন। সকালে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

পরে তিনি নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, তদন্তের একপর্যায়ে ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে কৌশলে আটক করার পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিলকে বৃহস্পতিবার কৌশলে আটক করা হয়।থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পরবর্তীতে জানানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। শিরোনাম তৈরি করে দাও


প্রিন্ট