ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান Logo আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫১০ বার পড়া হয়েছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার : অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে। এ সময়ে মোট সাতটি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জন্য কিছু জ্বালানিও আসবে বলে গণমাধ্যমকে গতকাল জানিয়েছেন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এয়ার স্পেস না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি বলে জানানো হয়।

তবে রূপপুর প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন এর প্রভাবে রূপপুর প্রকল্পের কাজের গতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে ইউনিট-১ এর ফুয়েল রাশিয়া থেকে এনে তা লোড করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের আরও ফুয়েল আসার কথা ছিল।

যদিও ইউনিট-২ এর ফুয়েল আগামী ৮ অক্টোবর আসার কথা। এখানে দুই রকমের ফুয়েল আসবে। প্রথম ইউনিটে যে ফুয়েল লোড করা হয়েছে এর সাইকেল টাইম ১২ মাস।

এ সময় পর এর একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হবে। এ অংশটি আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে ইউনিট-১ এর প্রথম রিলোডের জন্য বৃহস্পতিবার এ ফুয়েল আসার কথা ছিল। আরেকটি আসার কথা ১ অক্টোবর। যেহেতু কাছাকাছি সময়ের মধ্যে আসছে এজন্য সাধারণতভাবে ইউনিট-২ এর ফুয়েল আসছে এমনটি বলা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য জ্বালানি আসার কথা ছিল।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা এ জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে রাশিয়া থেকে এ জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আর আসেনি।

চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া আমাদের রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ফুয়েল দেবে। কিন্তু পারমাণবিক দ্রব্য যখন কোনো একটি দেশে যায় তখন এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই রাষ্ট্রের।

এ হিসেবে ঢাকা থেকে রূপপুর প্রকল্পে এটি আনতে যে নিরাপত্তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের। কিন্তু কমিশনের নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় রাষ্ট্র এ দায়িত্ব কমিশনের পক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিয়েছে।

এ হিসেবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীসহ অন্যদের নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে প্রকল্প এলাকায় ফুয়েল আনা হয়। কিন্তু রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় তাদের ফ্লাইটটি বিলম্ব হচ্ছে।

এটি চলতি সপ্তাহে না-ও আসতে পারে। এ বিষয়ে রোসাটম পরবর্তী ফ্লাইট কবে আসবে তা পরে জানানো হবে বলে জানায়। কিন্তু এটি মৌখিকভাবে জানালে হবে না। কারণ এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয় আছে। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের লিখিতভাবে পরের জ্বালানিবাহী ফ্লাইট কবে নাগাদ আসতে পারে তা জানাতে বলা হয়েছে।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত রোসাটমের পক্ষ থেকে কবে নাগাদ এই জ্বালানি আসবে তা জানানো হয়নি।

তবে এ বিলম্বের কারণে রূপপুর প্রকল্পের কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে কবীর হোসেন জানিয়েছেন। কারণ ইউনিট-১ এ পাঁচ মাস আগে ফুয়েল লোড করা হলেও এখনো সেটি উৎপাদনে যায়নি। এ হিসেবে বলা যায় ফুয়েল নির্ধারিত সময়সীমার আগেই চলে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ার স্পেসের যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে এতে ধারণা করা যায় যে, জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে আসবে। আর এই জ্বালানি যেহেতু ইউরেনিয়াম, যা খুবই স্পর্শকাতর হয়তো কোনো দেশ তার ওপর দিয়ে এই জ্বালানি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি।

রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ গণমাধ্যমকে শুরু থেকেই প্রকল্পের সার্বিক কর্মকা সম্পর্কে অবহিত করে আসছে।

এ সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আসছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো ফুয়েল বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। মোট সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে তখন সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে কিছু বাড়তি থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের ফুয়েল আসার পর বেশ কিছু সময় চলে যাওয়ায় প্রথম ইউনিটের কিছু ফুয়েল পরিবর্তন করতে হবে।

সেই ফুয়েলও এই চালানে আসার কথা রয়েছে। রোসাটমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই শিডিউলে তাদের কোনো সমস্যা নেই।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান

আপডেট সময় ০৯:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে। এ সময়ে মোট সাতটি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জন্য কিছু জ্বালানিও আসবে বলে গণমাধ্যমকে গতকাল জানিয়েছেন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এয়ার স্পেস না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি বলে জানানো হয়।

তবে রূপপুর প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন এর প্রভাবে রূপপুর প্রকল্পের কাজের গতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে ইউনিট-১ এর ফুয়েল রাশিয়া থেকে এনে তা লোড করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের আরও ফুয়েল আসার কথা ছিল।

যদিও ইউনিট-২ এর ফুয়েল আগামী ৮ অক্টোবর আসার কথা। এখানে দুই রকমের ফুয়েল আসবে। প্রথম ইউনিটে যে ফুয়েল লোড করা হয়েছে এর সাইকেল টাইম ১২ মাস।

এ সময় পর এর একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হবে। এ অংশটি আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে ইউনিট-১ এর প্রথম রিলোডের জন্য বৃহস্পতিবার এ ফুয়েল আসার কথা ছিল। আরেকটি আসার কথা ১ অক্টোবর। যেহেতু কাছাকাছি সময়ের মধ্যে আসছে এজন্য সাধারণতভাবে ইউনিট-২ এর ফুয়েল আসছে এমনটি বলা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য জ্বালানি আসার কথা ছিল।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা এ জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে রাশিয়া থেকে এ জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আর আসেনি।

চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া আমাদের রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ফুয়েল দেবে। কিন্তু পারমাণবিক দ্রব্য যখন কোনো একটি দেশে যায় তখন এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই রাষ্ট্রের।

এ হিসেবে ঢাকা থেকে রূপপুর প্রকল্পে এটি আনতে যে নিরাপত্তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের। কিন্তু কমিশনের নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় রাষ্ট্র এ দায়িত্ব কমিশনের পক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিয়েছে।

এ হিসেবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীসহ অন্যদের নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে প্রকল্প এলাকায় ফুয়েল আনা হয়। কিন্তু রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় তাদের ফ্লাইটটি বিলম্ব হচ্ছে।

এটি চলতি সপ্তাহে না-ও আসতে পারে। এ বিষয়ে রোসাটম পরবর্তী ফ্লাইট কবে আসবে তা পরে জানানো হবে বলে জানায়। কিন্তু এটি মৌখিকভাবে জানালে হবে না। কারণ এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয় আছে। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের লিখিতভাবে পরের জ্বালানিবাহী ফ্লাইট কবে নাগাদ আসতে পারে তা জানাতে বলা হয়েছে।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত রোসাটমের পক্ষ থেকে কবে নাগাদ এই জ্বালানি আসবে তা জানানো হয়নি।

তবে এ বিলম্বের কারণে রূপপুর প্রকল্পের কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে কবীর হোসেন জানিয়েছেন। কারণ ইউনিট-১ এ পাঁচ মাস আগে ফুয়েল লোড করা হলেও এখনো সেটি উৎপাদনে যায়নি। এ হিসেবে বলা যায় ফুয়েল নির্ধারিত সময়সীমার আগেই চলে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ার স্পেসের যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে এতে ধারণা করা যায় যে, জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে আসবে। আর এই জ্বালানি যেহেতু ইউরেনিয়াম, যা খুবই স্পর্শকাতর হয়তো কোনো দেশ তার ওপর দিয়ে এই জ্বালানি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি।

রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ গণমাধ্যমকে শুরু থেকেই প্রকল্পের সার্বিক কর্মকা সম্পর্কে অবহিত করে আসছে।

এ সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আসছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো ফুয়েল বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। মোট সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে তখন সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে কিছু বাড়তি থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের ফুয়েল আসার পর বেশ কিছু সময় চলে যাওয়ায় প্রথম ইউনিটের কিছু ফুয়েল পরিবর্তন করতে হবে।

সেই ফুয়েলও এই চালানে আসার কথা রয়েছে। রোসাটমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই শিডিউলে তাদের কোনো সমস্যা নেই।


প্রিন্ট