ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ: আবেদনপত্রে জামায়াত নেতার সুপারিশ
- আপডেট সময় ০৬:৪৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৮০ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের এক প্রার্থীর আবেদনপত্রে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সুপারিশ সংযুক্ত থাকার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর থেকে আবেদনপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আবেদনপত্রে দেখা যায়, উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রউফের ছেলে মো. আব্বাছ তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বিলাল হোসাইনের একটি সুপারিশপত্র সংযুক্ত রয়েছে বলে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মো. আব্বাছ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি বোয়ালমারীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সুপারিশ সংযুক্ত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আব্বাছ বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিধি মেনেই আবেদন করেছি। আবেদনের সঙ্গে কারও সুপারিশ থাকতেই পারে। যোগ্যতা থাকলে নিয়োগ পাব, না থাকলে পাব না। কিন্তু আমার আবেদনপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দুঃখজনক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এটি করা হয়েছে বলে আমার ধারণা।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বিলাল হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
বোয়ালমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত ইউএনওর নেতৃত্বেই গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রকিবুল হাসান বলেন, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাই-বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। ২ আগস্ট থেকে ভাইভা শুরু হয়ে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
তিনি আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারির আবেদনপত্রে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির সুপারিশের সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের সুপারিশ সংযুক্ত করে থাকলে তা বিধিবহির্ভূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশ বিবেচনা করা হবে না।”
প্রিন্ট







