ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১০:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৮৮৮ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করেছে পটুয়াখালী সদর থানা। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে বাদীর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ পূর্বপরিচিত শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গর্ভধারণের পর অভিযুক্ত তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে জেলা জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা জামায়াতের সভায় বিষয়টি আলোচনা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছেছে। নির্দেশ অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীতে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১০:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করেছে পটুয়াখালী সদর থানা। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে বাদীর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ পূর্বপরিচিত শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গর্ভধারণের পর অভিযুক্ত তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে জেলা জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা জামায়াতের সভায় বিষয়টি আলোচনা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছেছে। নির্দেশ অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।