ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান Logo আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬৮৬ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একটি সিআর মামলার ঘটনায় নিজে সরেজমিন তদন্ত না করে ১৪তম গ্রেডের এক কর্মকর্তা ও জারীকারককে দিয়ে তদন্ত করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর এমন লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯, মামলা নং-১৯৮/২৬। মামলার বাদী জসিম উদ্দিন। আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারায় হলফান্তে বাদীর ফরিয়াদীকে পরীক্ষা করে। দাখিলী নালিশী দরখাস্ত ও অভিযোগকারীরর প্রদত্ত জবানবন্দী পর্যালোচনা করে। গত ২১ মে নালিশী দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজিমন ঘটনাস্থল গমনপূর্বক সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) কে লিখিত আদেশ দেয় আদালত।

ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদালত কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন কে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে ১৪তম গ্রেডের কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম ও জারীকারক কামাল উদ্দিন কে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করান। পরে ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছি। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকেও অবহিত করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিজ থেকে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশে আমরা তদন্তে গিয়েছি।

অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন বলেন, আমার স্বামী জজ আমি কাউকে বলেনি। আমি বলে থাকলে তিনি প্রমাণ সহকারে উপস্থাপন করুক। আমারও নাগরিক হিসেবে একটা অধিকার আছে। আমার নামে কেউ যদি ভুল অভিযোগ দেয়, মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়, আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। আমার সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে আমারও অধিকার আছে।

তিনি আরও বলেন, বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। তারপরও ওই যুবকের বার বার সুপারিশের কারণে আমরা বিবাদীদেরও বক্তব্য নেয়। আমাদের শুধু বাদীর সাক্ষী পক্ষের আদালতে লিখিত জবানবন্দি পাঠানোর কথা। বরং আমরা বিবাদীর জবানবন্দিসহ পাঠিয়েছি। তারপরও তিনি যদি অভিযোগ করেন তার প্রমাণসহ অভিযোগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.ইয়াছিন বলেন, যথাযথ আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে তদন্ত নিয়ে ভুক্তভোগী সন্তুষ্ট না হলে তিনি আদালতে নারাজি দিবেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একটি সিআর মামলার ঘটনায় নিজে সরেজমিন তদন্ত না করে ১৪তম গ্রেডের এক কর্মকর্তা ও জারীকারককে দিয়ে তদন্ত করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর এমন লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯, মামলা নং-১৯৮/২৬। মামলার বাদী জসিম উদ্দিন। আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারায় হলফান্তে বাদীর ফরিয়াদীকে পরীক্ষা করে। দাখিলী নালিশী দরখাস্ত ও অভিযোগকারীরর প্রদত্ত জবানবন্দী পর্যালোচনা করে। গত ২১ মে নালিশী দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজিমন ঘটনাস্থল গমনপূর্বক সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) কে লিখিত আদেশ দেয় আদালত।

ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদালত কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন কে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে ১৪তম গ্রেডের কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম ও জারীকারক কামাল উদ্দিন কে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করান। পরে ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছি। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকেও অবহিত করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিজ থেকে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশে আমরা তদন্তে গিয়েছি।

অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কবিরহাট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন বলেন, আমার স্বামী জজ আমি কাউকে বলেনি। আমি বলে থাকলে তিনি প্রমাণ সহকারে উপস্থাপন করুক। আমারও নাগরিক হিসেবে একটা অধিকার আছে। আমার নামে কেউ যদি ভুল অভিযোগ দেয়, মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়, আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। আমার সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে আমারও অধিকার আছে।

তিনি আরও বলেন, বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। তারপরও ওই যুবকের বার বার সুপারিশের কারণে আমরা বিবাদীদেরও বক্তব্য নেয়। আমাদের শুধু বাদীর সাক্ষী পক্ষের আদালতে লিখিত জবানবন্দি পাঠানোর কথা। বরং আমরা বিবাদীর জবানবন্দিসহ পাঠিয়েছি। তারপরও তিনি যদি অভিযোগ করেন তার প্রমাণসহ অভিযোগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.ইয়াছিন বলেন, যথাযথ আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে তদন্ত নিয়ে ভুক্তভোগী সন্তুষ্ট না হলে তিনি আদালতে নারাজি দিবেন।


প্রিন্ট