ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান Logo আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প : নিহত ১৩২, আহত ৪৮০ জনের বেশি

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬৭৪ বার পড়া হয়েছে

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প : নিহত ১৩২, আহত ৪৮০ জনের বেশি। ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পটি কয়েকশ মাইল বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল পেরেইরা ও আশপাশের এলাকায়। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি সান হোসে দেল পালমার এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

পেরেইরার মহানগর এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া কালি শহরে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। মানিজালেস, কিবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায় দেল কাওকা অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মানিজালেসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী বোগোটাতেও গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যাপকভাবে কেঁপে ওঠে। কিছু ভবনে ফাটল দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত রাজধানীর অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজেট পুনর্বিন্যাসসহ বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতায় ইইউর কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) হিসাবে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ সাত মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, গভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম প্রাণঘাতী হলেও এগুলো ভবনের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প : নিহত ১৩২, আহত ৪৮০ জনের বেশি

আপডেট সময় ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পটি কয়েকশ মাইল বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল পেরেইরা ও আশপাশের এলাকায়। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি সান হোসে দেল পালমার এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

পেরেইরার মহানগর এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া কালি শহরে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। মানিজালেস, কিবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায় দেল কাওকা অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মানিজালেসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী বোগোটাতেও গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যাপকভাবে কেঁপে ওঠে। কিছু ভবনে ফাটল দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত রাজধানীর অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজেট পুনর্বিন্যাসসহ বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতায় ইইউর কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) হিসাবে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ সাত মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, গভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম প্রাণঘাতী হলেও এগুলো ভবনের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


প্রিন্ট