ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান Logo আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু Logo জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান Logo যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রীর এক বিরল ইতিহাস Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে : মাহদী আমিন Logo অর্থনীতি-বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্পে : ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি Logo বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

আজ কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

কবি শামসুর রাহমান

তাকে বলা হয় স্বাধীনতার কবি, কবিতার বরপুত্র। নিজের ভেতর ধারণ করেছেন আধুনিক বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে। যার কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। আজ ১৭ আগস্ট বরেণ্য এ কবির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের আজকের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে অনন্তে পাড়ি জমান এই কবি।

কবি শামসুর রাহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। তবে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। এছাড়া ওয়েবিনারে দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কবি-ভক্তরা তাকে স্মরণ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন শামসুর রাহমান। তার পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। তিনি পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশের পর ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতার প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল তার।

১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তার কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। কবিতায় একটি রক্তাক্ত শার্ট হয়ে ওঠে প্রতিবাদী মানুষের প্রতীক। ব্যক্তির মৃত্যু সেখানে রূপ নেয় সামষ্টিক প্রতিরোধের শক্তিতে। শামসুর রাহমানের কবিতায় এভাবেই ব্যক্তিগত অনুভব ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর মানুষের জীবন ও ইতিহাসে। মুক্তিযুদ্ধ তার কবিসত্তাকে আরও গভীরভাবে বদলে দেয়।

১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাড়াতলী গ্রামে অবস্থান করে তিনি লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় স্বাধীনতাকে তিনি কখনো শিশুর হাসি, কখনো মানুষের স্বপ্ন ও ভালোবাসার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। আর ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতায় স্বাধীনতার মূল্য উঠে এসেছে রক্ত, মৃত্যু, নির্যাতন ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।

কবিতার পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা এবং সাংবাদিকতায় তিনি অবদান রেখেছেন। তিনি সাংবাদিক হিসাবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কবিতা ছাড়াও তিনি লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ছড়া ও গল্প।

অনুবাদেও তিনি অবদান রেখেছেন। ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’, ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’সহ তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

 


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট সময় ১১:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

তাকে বলা হয় স্বাধীনতার কবি, কবিতার বরপুত্র। নিজের ভেতর ধারণ করেছেন আধুনিক বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে। যার কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। আজ ১৭ আগস্ট বরেণ্য এ কবির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের আজকের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে অনন্তে পাড়ি জমান এই কবি।

কবি শামসুর রাহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। তবে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। এছাড়া ওয়েবিনারে দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কবি-ভক্তরা তাকে স্মরণ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন শামসুর রাহমান। তার পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। তিনি পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশের পর ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতার প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল তার।

১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তার কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। কবিতায় একটি রক্তাক্ত শার্ট হয়ে ওঠে প্রতিবাদী মানুষের প্রতীক। ব্যক্তির মৃত্যু সেখানে রূপ নেয় সামষ্টিক প্রতিরোধের শক্তিতে। শামসুর রাহমানের কবিতায় এভাবেই ব্যক্তিগত অনুভব ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর মানুষের জীবন ও ইতিহাসে। মুক্তিযুদ্ধ তার কবিসত্তাকে আরও গভীরভাবে বদলে দেয়।

১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাড়াতলী গ্রামে অবস্থান করে তিনি লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় স্বাধীনতাকে তিনি কখনো শিশুর হাসি, কখনো মানুষের স্বপ্ন ও ভালোবাসার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। আর ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতায় স্বাধীনতার মূল্য উঠে এসেছে রক্ত, মৃত্যু, নির্যাতন ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।

কবিতার পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা এবং সাংবাদিকতায় তিনি অবদান রেখেছেন। তিনি সাংবাদিক হিসাবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কবিতা ছাড়াও তিনি লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ছড়া ও গল্প।

অনুবাদেও তিনি অবদান রেখেছেন। ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’, ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’সহ তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

 


প্রিন্ট