কক্সবাজারে ১,৯৩৮ আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫৩২ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের রামুতে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া এবং বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য যাচাইয়ের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছিল। ফলে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব ডিভাইস কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো, তা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হলে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, রামু থানায় করা মামলাটির তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জব্দ করা ডিভাইস বিশ্লেষণ করে চক্রটির সঙ্গে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত শেষে এ চক্রের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রিন্ট















