গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিরোধীদের বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান রিজভীর
- আপডেট সময় ০১:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫২৫ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে শুধু সমালোচনা না করে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, রাজপথে আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংসদে এসে সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেওয়া উচিত। গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, কোথা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব এবং কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়- সে বিষয়ে বিরোধী দলকে কার্যকর বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা’র নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন বা নানা কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু পাশাপাশি একটি বিকল্প প্রস্তাবও দিন যে, আমরা কীভাবে এই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করব; কোথা থেকে ও কীভাবে তা পাব।’
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের সমালোচনা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ, তেমনি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়াও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। দেশের মানুষকে দুর্ভোগে না ফেলে কীভাবে সংকট মোকাবিলা করা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সে পথ দেখাতে হবে। অতীতের ভুল নীতি ও পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি আমদানির ওপর। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা ও নীতিরও প্রভাব রয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রিজভী। তিনি বলেন, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস সঞ্চারে ভূমিকা রেখেছিল। সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে ঐক্য, প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, অভিনেতা হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন ও তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব শেষে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রিন্ট


















