‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ
- আপডেট সময় ০৯:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৮৫ বার পড়া হয়েছে
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম সাগর। অনুষ্ঠানে নবগঠিত ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এতে সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হোসেন (সাম্য শাহ)।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দেশের রাজনীতির জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেসব ছাত্রনেতাকে সামনে এনেছিলেন, তাঁরা বর্তমানে বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামার পেছনেও নানা ষড়যন্ত্র কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সংকট কাটাতে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশের বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশে চার কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ না থাকায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে না। এ অবস্থায় এক কোটি মানুষের চাকরির যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছে, তা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। বিএনপি এরই মধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ভঙ্গ করতে শুরু করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, প্রধান বিচারপতি যদি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন, তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বেহাত হয়েছে দাবি করে মান্না আরও বলেন, স্বাধীনতা ও নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর এবারও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপে এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ড. ইউনূসকে নিয়ে মানুষের অনেক আশা থাকলেও তিনি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ড. ইউনূস গুটিকয়েক ছাত্রকে প্রাধান্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের তৃতীয় সারির কর্মীদের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ও উপদেষ্টা বানিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিবাদের কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত ও বিচারের আওতায় আনলেও মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
এনসিপির সমালোচনা করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এনসিপির নেতারা রাজনীতিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এই তরুণদের মনে ক্ষমতার লোভ জাগিয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এনসিপি রাজনীতির নামে একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। গালাগালকে তারা রাজনীতির অংশে পরিণত করেছে। এটি কোনো রাজনীতি নয়, বরং অপরাজনীতি।
রাজনীতি একটি দীর্ঘ ও সংগ্রামের পথ উল্লেখ করে তিনি এনসিপির নেতাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বিএনপিকে সতর্ক করে সাইফুল হক বলেন, একটি গোষ্ঠী দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জামায়াত ও এনসিপির জন্য রাজনীতির মাঠ খালি ছেড়ে দিলে টেকসই রাজনীতি সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে বিএনপিকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র : ইত্তেফাক
প্রিন্ট




















