পটুয়াখালীর দশমিনায় গণঅধিকারের কমিটির পদ-পদবি ও অনুমোদন কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০ জন
- আপডেট সময় ০৬:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৭২ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের ইউনিয়ন কমিটির পদ-পদবি ও অনুমোদন কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়কের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঘটা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহতদের মধ্যে নতুন ঘোষিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলামসহ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় ও সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রণগোপালদী ইউনিয়নের এক বছর মেয়াদি একটি আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ওই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
কমিটি প্রকাশের পর থেকেই পদ-পদবি বণ্টন নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও মতদ্বৈধতা দেখা দেয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে নতুন কমিটির নেতা–কর্মীরা প্রবেশ করতে গেলে সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝির অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি থেকে সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম হাসপাতালে নেওয়ার পথে বলেন, উপজেলা থেকে আমাদের আংশিক কমিটি অনুমোদনের পর সোমবার বিকেলে আমরা কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউনিয়ন অফিসে যাই। সেখানে বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝি বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। এতে প্রতিবাদ জানালে তারা আমাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
একই অভিযোগ করে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার বলেন, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই মুছা মাঝি সংগঠনবিরোধী হুমকি ধামকি দিচ্ছিলেন। অফিসে যাওয়ার পরপরই তাদের হামলায় সভাপতিসহ আমাদের বেশ কয়েকজন কুপিয়ে জখম হন।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সহসভাপতি মুছা মাঝি উপজেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
মুছা মাঝির দাবি, দলের প্রতিকূল সময়ে আমরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছি। কিন্তু উপজেলা কমিটি টাকার বিনিময়ে নতুন এই কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। আমরা কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করছিলাম, তখন মাইদুল ও মামুনের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একদল সশস্ত্র লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০-১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
সংগঠনের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সহিংসতার বিষয়ে দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, সংগঠনবিরোধী আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
উপজেলা সভাপতি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবেই রণগোপালদী ইউনিয়নের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সংঘর্ষের ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘কমিটি গঠন কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রিন্ট



















