ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন Logo বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ? Logo বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা Logo দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজেশন কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। Logo আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: যেভাবে ফল দেখবেন Logo মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত : ইউনিসেফ Logo চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। Logo গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে কাজ করে চলেছে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে, মহাসচিবের চেয়ারে কে?

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
  • আপডেট সময় ০১:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫৬৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া রাষ্ট্রপতির পদে কে আসছেন- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতিসূচক লিখিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল স্বাক্ষর করেছেন বলেও সূত্রের দাবি।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি- বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত ফলাফল বলা যাবে না।

তারপরও যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসবে- প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুলের জায়গায় কে বসবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বিএনপির একটি সাংগঠনিক পদ পূরণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ভারসাম্য, সরকার ও দলের সম্পর্ক এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।

বঙ্গভবনের পথে ফখরুল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ের বড় একটি অংশ তাঁর মহাসচিবত্বের সময়েই কেটেছে। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থান, রাজনৈতিক আন্দোলন, নির্বাচন এবং নানা সংকট- প্রতিটি পর্যায়েই তিনি দলের প্রকাশ্য মুখ হিসেবে সামনে ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংযত বক্তব্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য যাত্রা শুধু একজন নেতার পদোন্নতি নয়; এটি বিএনপির একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তিও হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নিজে থেকে কোনো চূড়ান্ত প্রার্থিতার প্রমাণ নয়। তবে মির্জা ফখরুলের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের খবরের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখলে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়।

অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে নির্বাচনে অন্তত দৃশ্যমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

ফখরুল গেলে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি চেয়ার

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিএনপির মহাসচিব পদটি। কারণ এই পদটি কেবল দলের একজন মুখপাত্রের পদ নয়।

মহাসচিবকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থায়ী কমিটি, সংসদীয় দল, তৃণমূল সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। আর বর্তমান বাস্তবতায় দায়িত্বটি আরও কঠিন।

বিএনপি এখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে। ফলে নতুন মহাসচিবকে একই সঙ্গে দল ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করতে হবে।

বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মহাসচিবের প্রধান কাজ ছিল সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁকে সরকারের সাফল্য ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, অসন্তোষ ও সাংগঠনিক সমস্যাও সামলাতে হবে।

অর্থাৎ নতুন মহাসচিবের সামনে থাকবে দ্বৈত দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলের সঙ্গে সংযোগ- দুটিই একসঙ্গে ধরে রাখতে হবে।

মহাসচিব নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিবেচনা কী?

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন করতে গিয়ে দলের নেতৃত্বকে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

প্রথমত, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের সক্ষমতা।

দ্বিতীয়ত, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা।

তৃতীয়ত, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা।

চতুর্থত, সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা।

পঞ্চমত, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা।

ষষ্ঠত, সরকার ও দল- দুটি কাঠামোর মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা।

কারণ নতুন বাস্তবতায় মহাসচিবকে শুধু বক্তা হলে চলবে না। তাঁকে হতে হবে সংগঠক, সমন্বয়কারী এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপক।

প্রবীণ নেতৃত্ব, নাকি নতুন প্রজন্ম?

বিএনপির সামনে এখন একটি মৌলিক সিদ্ধান্তও রয়েছে। দল কি মির্জা ফখরুলের মতো দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকে মহাসচিব করবে?

নাকি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও গতিশীল কোনো নেতাকে সামনে এনে নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সূচনা করবে?

দুই পথেরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ নেতার ক্ষেত্রে দলের ইতিহাস, অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও তাঁর শক্তি হতে পারে।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নেতা হলে দলের মধ্যে নতুন উদ্যম তৈরি হতে পারে। তরুণ নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়তে পারে। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি, দলের বিভিন্ন বলয়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা- এসব প্রশ্নও সামনে আসবে। তাই মহাসচিব নির্বাচন হবে বিএনপির জন্য একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক ভারসাম্যের সিদ্ধান্ত।

মহাসচিবের চেয়ার মানেই দলের ক্ষমতার কেন্দ্র

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোয় মহাসচিব পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহাসচিবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক বক্তব্যের সমন্বয়, দলীয় কর্মসূচি, কেন্দ্র ও তৃণমূলের যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই মহাসচিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই নতুন মহাসচিবের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যও বদলাতে পারে।

কোনো নেতার প্রভাব বাড়তে পারে, কারও কমতে পারে। নতুন কোনো বলয় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণও ভেঙে যেতে পারে। এ কারণেই মহাসচিবের নাম ঘোষণা বিএনপির অভ্যন্তরে নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হবে না। এটি হবে একটি রাজনৈতিক বার্তা।

তারেক রহমানের জন্যও এটি বড় পরীক্ষা

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নির্বাচন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ মহাসচিব হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সহযোগীদের একজন। একজন ভুল পছন্দ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে সঠিক পছন্দ দলকে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো দিতে পারে। তারেক রহমান এমন একজনকে চাইবেন, যিনি তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সক্ষম, কিন্তু একই সঙ্গে দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতাও রাখেন।

শুধু আনুগত্য যথেষ্ট নয়। আবার শুধু জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হবে- আস্থা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়।

ফখরুলের উত্তরসূরি আসলে ভবিষ্যৎ বিএনপির প্রতিচ্ছবি

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। দল চাইলে পুরোনো ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। আবার চাইলে নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সূচনা করতে পারে।

যদি প্রবীণ নেতৃত্বকে বেছে নেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা। আর যদি নতুন প্রজন্মের কাউকে সামনে আনা হয়, তাহলে সেটি হবে পরিবর্তন ও প্রজন্মান্তরের বার্তা।

অর্থাৎ নতুন মহাসচিবের নামটি অনেক কিছু বলে দেবে। বিএনপি কোন ধরনের রাজনৈতিক দল হিসেবে আগামী দিনগুলোতে নিজেকে দেখতে চায়- তার একটি ইঙ্গিতও পাওয়া যাবে সেই সিদ্ধান্তে।

বঙ্গভবনে ফখরুল, নয়াপল্টনে নতুন সমীকরণ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। কিন্তু একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বেও নতুন অধ্যায় শুরু হবে। একজন দীর্ঘদিনের মহাসচিব সরে যাবেন। একজন নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।

আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাতে পারে বিএনপির সাংগঠনিক গতিপথও। নতুন মহাসচিবকে শুধু দল চালাতে হবে না। তাঁকে দলের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে হবে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু- “মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না?”

প্রশ্নটি আরও বড়- “ফখরুলের পর বিএনপির রাজনৈতিক চালকের আসনে কে বসছেন?”

শেষ কথা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে। মনোনয়নপত্র দাখিল হবে। আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা হবে। এরপর ভোট ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু তার সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে বিএনপির ভেতরেও।

কারণ প্রায় দেড় দশকের মহাসচিবের অধ্যায়ের পর নতুন একজনকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি কে হবেন- সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল।

বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল- এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে গেলে, মহাসচিবের চেয়ারে কে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একজন ব্যক্তির নাম জানাবে না। জানাবে আগামী দিনের বিএনপি কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে, মহাসচিবের চেয়ারে কে?

আপডেট সময় ০১:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া রাষ্ট্রপতির পদে কে আসছেন- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতিসূচক লিখিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল স্বাক্ষর করেছেন বলেও সূত্রের দাবি।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি- বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত ফলাফল বলা যাবে না।

তারপরও যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসবে- প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুলের জায়গায় কে বসবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বিএনপির একটি সাংগঠনিক পদ পূরণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ভারসাম্য, সরকার ও দলের সম্পর্ক এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।

বঙ্গভবনের পথে ফখরুল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ের বড় একটি অংশ তাঁর মহাসচিবত্বের সময়েই কেটেছে। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থান, রাজনৈতিক আন্দোলন, নির্বাচন এবং নানা সংকট- প্রতিটি পর্যায়েই তিনি দলের প্রকাশ্য মুখ হিসেবে সামনে ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংযত বক্তব্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য যাত্রা শুধু একজন নেতার পদোন্নতি নয়; এটি বিএনপির একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তিও হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নিজে থেকে কোনো চূড়ান্ত প্রার্থিতার প্রমাণ নয়। তবে মির্জা ফখরুলের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের খবরের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখলে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়।

অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে নির্বাচনে অন্তত দৃশ্যমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

ফখরুল গেলে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি চেয়ার

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিএনপির মহাসচিব পদটি। কারণ এই পদটি কেবল দলের একজন মুখপাত্রের পদ নয়।

মহাসচিবকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থায়ী কমিটি, সংসদীয় দল, তৃণমূল সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। আর বর্তমান বাস্তবতায় দায়িত্বটি আরও কঠিন।

বিএনপি এখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে। ফলে নতুন মহাসচিবকে একই সঙ্গে দল ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করতে হবে।

বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মহাসচিবের প্রধান কাজ ছিল সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁকে সরকারের সাফল্য ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, অসন্তোষ ও সাংগঠনিক সমস্যাও সামলাতে হবে।

অর্থাৎ নতুন মহাসচিবের সামনে থাকবে দ্বৈত দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলের সঙ্গে সংযোগ- দুটিই একসঙ্গে ধরে রাখতে হবে।

মহাসচিব নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিবেচনা কী?

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন করতে গিয়ে দলের নেতৃত্বকে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

প্রথমত, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের সক্ষমতা।

দ্বিতীয়ত, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা।

তৃতীয়ত, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা।

চতুর্থত, সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা।

পঞ্চমত, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা।

ষষ্ঠত, সরকার ও দল- দুটি কাঠামোর মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা।

কারণ নতুন বাস্তবতায় মহাসচিবকে শুধু বক্তা হলে চলবে না। তাঁকে হতে হবে সংগঠক, সমন্বয়কারী এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপক।

প্রবীণ নেতৃত্ব, নাকি নতুন প্রজন্ম?

বিএনপির সামনে এখন একটি মৌলিক সিদ্ধান্তও রয়েছে। দল কি মির্জা ফখরুলের মতো দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকে মহাসচিব করবে?

নাকি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও গতিশীল কোনো নেতাকে সামনে এনে নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সূচনা করবে?

দুই পথেরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ নেতার ক্ষেত্রে দলের ইতিহাস, অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও তাঁর শক্তি হতে পারে।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নেতা হলে দলের মধ্যে নতুন উদ্যম তৈরি হতে পারে। তরুণ নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়তে পারে। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি, দলের বিভিন্ন বলয়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা- এসব প্রশ্নও সামনে আসবে। তাই মহাসচিব নির্বাচন হবে বিএনপির জন্য একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক ভারসাম্যের সিদ্ধান্ত।

মহাসচিবের চেয়ার মানেই দলের ক্ষমতার কেন্দ্র

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোয় মহাসচিব পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহাসচিবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক বক্তব্যের সমন্বয়, দলীয় কর্মসূচি, কেন্দ্র ও তৃণমূলের যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই মহাসচিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই নতুন মহাসচিবের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যও বদলাতে পারে।

কোনো নেতার প্রভাব বাড়তে পারে, কারও কমতে পারে। নতুন কোনো বলয় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণও ভেঙে যেতে পারে। এ কারণেই মহাসচিবের নাম ঘোষণা বিএনপির অভ্যন্তরে নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হবে না। এটি হবে একটি রাজনৈতিক বার্তা।

তারেক রহমানের জন্যও এটি বড় পরীক্ষা

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নির্বাচন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ মহাসচিব হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সহযোগীদের একজন। একজন ভুল পছন্দ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে সঠিক পছন্দ দলকে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো দিতে পারে। তারেক রহমান এমন একজনকে চাইবেন, যিনি তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সক্ষম, কিন্তু একই সঙ্গে দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতাও রাখেন।

শুধু আনুগত্য যথেষ্ট নয়। আবার শুধু জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হবে- আস্থা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়।

ফখরুলের উত্তরসূরি আসলে ভবিষ্যৎ বিএনপির প্রতিচ্ছবি

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। দল চাইলে পুরোনো ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। আবার চাইলে নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সূচনা করতে পারে।

যদি প্রবীণ নেতৃত্বকে বেছে নেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা। আর যদি নতুন প্রজন্মের কাউকে সামনে আনা হয়, তাহলে সেটি হবে পরিবর্তন ও প্রজন্মান্তরের বার্তা।

অর্থাৎ নতুন মহাসচিবের নামটি অনেক কিছু বলে দেবে। বিএনপি কোন ধরনের রাজনৈতিক দল হিসেবে আগামী দিনগুলোতে নিজেকে দেখতে চায়- তার একটি ইঙ্গিতও পাওয়া যাবে সেই সিদ্ধান্তে।

বঙ্গভবনে ফখরুল, নয়াপল্টনে নতুন সমীকরণ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। কিন্তু একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বেও নতুন অধ্যায় শুরু হবে। একজন দীর্ঘদিনের মহাসচিব সরে যাবেন। একজন নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।

আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাতে পারে বিএনপির সাংগঠনিক গতিপথও। নতুন মহাসচিবকে শুধু দল চালাতে হবে না। তাঁকে দলের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে হবে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু- “মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না?”

প্রশ্নটি আরও বড়- “ফখরুলের পর বিএনপির রাজনৈতিক চালকের আসনে কে বসছেন?”

শেষ কথা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে। মনোনয়নপত্র দাখিল হবে। আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা হবে। এরপর ভোট ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু তার সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে বিএনপির ভেতরেও।

কারণ প্রায় দেড় দশকের মহাসচিবের অধ্যায়ের পর নতুন একজনকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি কে হবেন- সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল।

বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল- এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে গেলে, মহাসচিবের চেয়ারে কে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একজন ব্যক্তির নাম জানাবে না। জানাবে আগামী দিনের বিএনপি কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক


প্রিন্ট