সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানালেন বিএনপি নেতা
- আপডেট সময় ০১:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নাম জড়িয়ে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. বেল্লাল হোসেন। এসব প্রচারণাকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে তিনি ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক প্রতিবাদ বার্তায় এম. বেল্লাল হোসেন বলেন, তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার দেখতে পাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে তার ভাতিজা রিয়াজ হোসেন বশিকপুরে তার বড় বোনের বাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ডোম বাড়ির পাশে কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে একটি বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
এম. বেল্লাল হোসেনের অভিযোগ, হামলাকারীরা রিয়াজের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাদক থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে লাঠি, লাইট ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একই সময় তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে রিয়াজকে পদ্মার বাজার পুলিশ ইনচার্জের কাছে ‘মাদক উদ্ধার হয়েছে’ দাবি করে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি। পুলিশ আহত রিয়াজকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা।
‘যারা হামলা করেছে, তারাই মাদক ব্যবসায়ী’
এম. বেল্লাল হোসেন দাবি করেন, যারা মাদকের অভিযোগ তুলে রিয়াজের ওপর হামলা করেছে, তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘আমাকে ও দলকে হেয় করার অপচেষ্টা’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে প্রচারণার বিষয়ে এম. বেল্লাল হোসেন বলেন, একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে এবং তার দলকে হেয় করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা আমাকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, আমি মনে করি এটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে ও আমার দলকে হেয় করার অপচেষ্টা। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য জনসাধারণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এম. বেল্লাল হোসেন আরও বলেন, এ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
এদিকে পুলিশের দেওয়া বিবৃতি থেকে জানা যায়, রিয়াজ হোসেনের কাছ থেকে পুলিশ সরাসরি কোনো মাদক উদ্ধার করেনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াজকে যারা আটক করেছিলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। ফলে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা বা তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশের এ বক্তব্যের ফলে ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রিয়াজকে কারা আটক করেছিল, কেন তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং মাদক উদ্ধারের দাবির ভিত্তি কী ছিল- এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ঘটনায় রিয়াজ হোসেনের ওপর হামলা, তাকে আটকে রাখার অভিযোগ এবং মাদক-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
প্রিন্ট


















