ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত
- আপডেট সময় ১১:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫১২ বার পড়া হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগের পর আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বুধবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় আবুধাবি।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়ে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সামুদ্রিক যোগাযোগ ও নৌযান চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
ঘটনার আগে আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বাসিন্দাদের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানায়। পরে সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতেও নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আমিরাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান ও আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এডনকের দুটি জাহাজে হামলার অভিযোগও তেহরানের বিরুদ্ধে তুলেছিল আবুধাবি। তবে ওই হামলার দায় ইরান স্বীকার করেনি।
আমিরাতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুবাই ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে আবুধাবির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
প্রিন্ট






















