বঙ্গভবনে ফখরুল গেলে নয়াপল্টনের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ
রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল, বিএনপির মহাসচিব রিজভী
- আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৭৫৬ বার পড়া হয়েছে
রাজনীতিতে কোনো পদ শূন্য হওয়ার আগেই যখন সেই পদের উত্তরসূরির নাম আলোচনায় চলে আসে, তখন বুঝতে হয়- পর্দার আড়ালে কোনো না কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিএনপির রাজনীতিতে এখন ঠিক তেমনই একটি আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তখন একই সঙ্গে সামনে চলে এসেছে আরেকটি বড় প্রশ্ন- ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে?
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় এই প্রশ্নের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদের নাম।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার- রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন কিংবা বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে রিজভীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাব্য নেতৃত্বের সমীকরণের পর্যায়েই রয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে সম্ভাবনাও কখনো কখনো বাস্তবতার পূর্বাভাস দেয়।
ফখরুলের সম্ভাব্য বঙ্গভবনযাত্রা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি একাধিক রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন ও নির্বাচনী বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি একই সঙ্গে সাংগঠনিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় রাজনীতির বাস্তবতা বোঝেন। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনায় আসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি পদটি দলীয় রাজনীতির বাইরের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। আর মহাসচিব পদ সম্পূর্ণভাবে দলীয় সংগঠনকেন্দ্রিক। তাই মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে হবে- এটাই স্বাভাবিক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। আর সেখানেই শুরু হবে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের অধ্যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই অধ্যায়ের নেতৃত্ব দেবেন কে?
রিজভীর নাম কেন সামনে?
রুহুল কবির রিজভী আহমদকে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা।
তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক যোগাযোগে তিনি নিয়মিত সক্রিয়। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো- তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ।
বাংলাদেশের মতো বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোর একটি রাজনৈতিক দলে মহাসচিবের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি হলো কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সেতুবন্ধন তৈরি করা। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা- এই কাজের জন্য প্রয়োজন মাঠের রাজনীতি বোঝা।
রিজভী দীর্ঘদিন ধরে সেই রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত। তাই তার নাম সামনে আসাটা কেবল পদমর্যাদার ধারাবাহিকতা নয়; এর সঙ্গে রয়েছে সাংগঠনিক বাস্তবতার হিসাবও।
রাজপথের নেতা থেকে সম্ভাব্য মহাসচিব
রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮৯ সালে রাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতির উত্তাল সময় পেরিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলীয় আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছেন।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। অর্থাৎ বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তিনি এমন একটি অবস্থানে রয়েছেন, যেখান থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে যাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে অস্বাভাবিক বলা যায় না।
বরং প্রচলিত দলীয় ধারাবাহিকতার দৃষ্টিতে সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবকে সম্ভাব্য পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করা অনেক সময় স্বাভাবিক। মির্জা ফখরুলের ক্ষেত্রেও যার একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে।
২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই ইতিহাসই এখন রিজভীর সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় এনেছে।
দুঃসময়ে রিজভী- সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মূলধন
রাজনীতিতে সুসময় সবাইকে নেতা বানায়; কিন্তু দুঃসময় নেতা তৈরি করে। রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক সম্ভবত এখানেই।
বিএনপির কঠিন সময়গুলোতে তাকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সক্রিয় দেখা গেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি, গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে দীর্ঘ সময় নিজের রাজনৈতিক কর্মস্থলে পরিণত করার ঘটনা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায়।
পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সংকটময় পরিস্থিতিতে তার সক্রিয়তা তাকে দলের তৃণমূলের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর কাছে রিজভী এমন একজন নেতা, যিনি দুঃসময়ে দৃশ্যমান ছিলেন। আর রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এই আস্থা অনেক বড় সম্পদ।
‘ফুলটাইম’ মহাসচিবের প্রয়োজন
বিএনপির সামনে আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে। সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া দলের শীর্ষ নেতাদের সময়ের বড় অংশ রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ নেতারা মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় আগে থেকেই ছিলেন। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নীতিনির্ধারণী দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই।
কিন্তু মহাসচিবের দায়িত্ব এমন একটি পদ, যেখানে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রায় পূর্ণকালীন মনোযোগ প্রয়োজন। এই জায়গায় রিজভীর অবস্থান আলাদা।
তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় সংগঠন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তাই বিএনপি যদি একজন ‘ফুলটাইম’ সাংগঠনিক মহাসচিব চায়, তাহলে রিজভীর নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসতে পারে।
রিজভী কি প্রস্তুত?
মহাসচিব হওয়ার আলোচনা নিয়ে রিজভী নিজে অবশ্য কোনো দাবি করেননি। তার বক্তব্যের সারকথা- দল তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটি বিএনপির চেয়ারম্যান, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত নেবে।
এই বক্তব্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি প্রকাশ্যে পদ দাবি না করে দলের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে- মহাসচিবের দায়িত্ব শুধু দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পুরস্কার কি না?
অবশ্যই নয়। এটি একই সঙ্গে বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব।
একজন মহাসচিবকে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলাতে হয়, তৃণমূলকে সংগঠিত রাখতে হয়, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়, রাজনৈতিক বক্তব্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হয় এবং প্রয়োজনে সংকটের সময় দলের সামনে দাঁড়াতে হয়। রিজভীর সামনে তাই সম্ভাবনার পাশাপাশি কঠিন পরীক্ষাও থাকবে।
ফখরুল গেলে বিএনপির রাজনীতি কি বদলাবে?
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন শুধু পদ পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে দলের রাজনৈতিক ভাষা, সাংগঠনিক অগ্রাধিকার এবং নেতৃত্বের ধরনেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ফখরুলের নেতৃত্ব ছিল তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ, সংযত ও আলোচনামুখী।
রিজভীর রাজনৈতিক পরিচয় আবার বেশি আন্দোলনকেন্দ্রিক, মাঠমুখী ও সাংগঠনিক।
তাই রিজভী মহাসচিব হলে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসতে পারে।
তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার হতে পারে। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক বক্তব্যেও রাজপথের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
তবে এটিই শেষ কথা নয়। ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব বিরোধী দলের মহাসচিবের দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়, প্রশাসনিক বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনৈতিক ভারসাম্য- সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এটাই হবে রিজভীর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
শেষ সিদ্ধান্ত কার?
বিএনপির মহাসচিব কে হবেন- এখনই তার চূড়ান্ত উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে- এটাই স্বাভাবিক।
তিনি এমন একজন মহাসচিব চাইবেন, যিনি একদিকে দলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে পারবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন বাস্তবতায় দল ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ও করতে পারবেন।
রিজভীর পক্ষে সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুঃসময়ের রাজনৈতিক ভূমিকা। অন্যদিকে অন্য সম্ভাব্য নেতাদের রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের অভিজ্ঞতা। অতএব, সিদ্ধান্তটি সহজ হবে না।
আসল প্রশ্ন- রিজভী নয়, বিএনপির ভবিষ্যৎ
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু রুহুল কবির রিজভী মহাসচিব হবেন কি না- এ প্রশ্নে আটকে থাকলে বিএনপির সামনে তৈরি হওয়া বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনটি বোঝা যাবে না।
আসল প্রশ্ন হলো- বিএনপি ভবিষ্যতে কোন ধরনের নেতৃত্ব চায়?
দল কি আরও বেশি তৃণমূলনির্ভর হবে?
নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় আরও বেশি নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্বকে সামনে আনবে?
মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে বিএনপির নেতৃত্বে একটি প্রজন্মগত ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের দরজা খুলে যাবে। আর সেই দরজার সামনে রুহুল কবির রিজভীর নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
শেষ কথা
রাজনীতিতে কোনো চেয়ারই স্থায়ী নয়। ব্যক্তি বদলায়, পদ বদলায়, কিন্তু পদটির গুরুত্ব থেকে যায়।
মির্জা ফখরুল যদি সত্যিই বঙ্গভবনে যান, তাহলে বিএনপির মহাসচিবের চেয়ারটি শুধু একজন নেতার বিদায়ের কারণে খালি হবে না; বরং সেটি হয়ে উঠবে বিএনপির নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাবিন্দু।
সেই অধ্যায়ের সম্ভাব্য মুখ রুহুল কবির রিজভী আহমদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার ইতিহাস- সব মিলিয়ে তিনি অবশ্যই শক্তিশালী দাবিদার।
কিন্তু মহাসচিবের চেয়ার পাওয়া আর সেই চেয়ারকে সফলভাবে পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। রিজভীর সামনে যদি সত্যিই সেই সুযোগ আসে, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে- তিনি শুধু বিএনপির দুঃসময়ের সংগঠক নন, বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষম একজন পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপকও।
তাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু- মির্জা ফখরুল কি বঙ্গভবনে যাচ্ছেন?
তার চেয়েও বড় প্রশ্ন- ফখরুল বঙ্গভবনে গেলে রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপি কোন পথে যাবে?
কারণ একটি দলের মহাসচিব বদল মানে শুধু একটি চেয়ার বদল নয়; কখনো কখনো সেটিই হয়ে ওঠে পুরো দলের রাজনৈতিক যাত্রাপথ বদলের সূচনা।
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
লেখক | সাংবাদিক | কলামিস্ট | বিশ্লেষক
প্রিন্ট


















