আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- আপডেট সময় ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে ‘দাফন’ হয়ে গেছেন। ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা চালালে তা মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও জনগণের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটিই বাংলাদেশের অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে ভারতও তার দায় এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।’
শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিছু মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং আরও অনেক মামলা বিচারাধীন। কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ করেননি।
তার অভিযোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার ঘটনাকে শেখ হাসিনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় শেখ হাসিনাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে ভারত কীভাবে স্বীকৃতি দিতে পারে- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বার্তা
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও রয়েছে।
তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে।
‘আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না’- বলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমও হয়েছে। এরপরও ভারতে অবস্থান করে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তারাও রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ করছেন।
‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি আর চলবে না’
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ ভবিষ্যতে চলবে না বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের চেতনা ব্যবহার করে রাজনীতি করার প্রবণতা বাংলাদেশে অতীতে দেখা গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে ব্যবহার করে কোনো দল বা গোষ্ঠী একক রাজনৈতিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।
তার ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফল নয়; এর পেছনে দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন রয়েছে।
তবে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যারা সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন এবং শহীদ হয়েছেন, তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারে ১০ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের সীমার প্রস্তাব
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এমন সাংবিধানিক সংশোধন আনতে চায়, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী যতবারই ক্ষমতায় আসুন না কেন, মোট ১০ বছরের বেশি যেন প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন- এমন বিধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি চালুর কথাও জানান তিনি।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ ব্যবস্থা এবং সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।
‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য অটুট রাখতে হবে’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়েছে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না পারলে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল- এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিণতি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কেউ যদি এখন বিপরীত ধরনের বক্তব্য দেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই সেটিকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।
প্রিন্ট























