ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন Logo বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ? Logo বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা Logo দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজেশন কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। Logo আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: যেভাবে ফল দেখবেন Logo মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত : ইউনিসেফ

রাষ্ট্রপতির দৌড়ে অলি আহমাদ: সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
  • আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • / ২৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি বড়ই অদ্ভুত এক মঞ্চ। এখানে ইতিহাস কখনো সরল পথে হাঁটে না, রাজনৈতিক সমীকরণও স্থির থাকে না। গতকালের সহযোদ্ধা আজকের প্রতিপক্ষ হতে পারেন, আবার একসময়ের রাজনৈতিক বিরোধী পরদিন হয়ে উঠতে পারেন জোটসঙ্গী। রাজনীতির এই চিরপরিবর্তনশীল মঞ্চে কর্নেল (অব.) অলি আহমাদ বীর বিক্রমের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তাই নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এর ভেতরে আছে ইতিহাস, আদর্শ, জোটের হিসাব এবং ক্ষমতার অঙ্ক।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন প্রবীণ নেতা- অলি আহমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের সূচনাটা নিঃসন্দেহে গৌরবের। তাঁর সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনীতির পথ বদলেছে। বদলেছে রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় সম্পর্ক এবং জোটের সমীকরণও।

আজ সেই অলি আহমাদের নাম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। আর তাঁর পেছনে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন। এখানেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহলের নতুন অধ্যায়।

কারণ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের গভীরভাবে বিতর্কিত একটি অধ্যায়। আর সেই ইতিহাসের এক গৌরবময় অংশের সঙ্গে যাঁর নিজের পরিচয় জড়িয়ে- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা- তিনি যখন জামায়াত-সমর্থিত রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হন, তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এটি কি কেবল সময়ের দাবি?

নাকি রাজনীতির প্রয়োজনের কাছে ইতিহাস ও আদর্শের সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে?

ইতিহাসের এক অদ্ভুত পরিহাস

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো- এটি কাউকে তার অতীত থেকে মুক্তি দেয় না। রাজনীতিতে দল বদলানো যায়, জোট বদলানো যায়, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু অতীতের ঘটনাগুলোকে নতুন করে লেখা যায় না।

অলি আহমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নামের সঙ্গে ‘বীর বিক্রম’ উপাধি যুক্ত।

অন্যদিকে যে রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বাধীন জোট তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে গভীর বিতর্ক ও সমালোচনা।

এই দুই বাস্তবতা যখন একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসের সামনে একটি আয়না ধরে। সেই আয়নায় কে কী দেখবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

কেউ দেখবেন রাজনৈতিক বাস্তবতা। কেউ দেখবেন জোটের কৌশল। কেউ দেখবেন আদর্শের পরিবর্তন। আবার কেউ হয়তো দেখবেন- সময় কীভাবে রাজনীতির চরিত্র বদলে দেয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজকের অবস্থান

অলি আহমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর একসময় মতপার্থক্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং বিএনপির বাইরে অবস্থান নেন।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক নয়। একজন রাজনীতিক তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী নতুন দল গঠন করতে পারেন, জোট পরিবর্তন করতে পারেন, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যেতে পারেন।

কিন্তু রাজনীতির একটি কঠিন নিয়ম আছে- প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি রাজনৈতিক মূল্য থাকে। দল ছাড়ার মূল্য আছে। জোট পরিবর্তনের মূল্য আছে। নির্বাচনে ভুল কৌশলের মূল্য আছে। আবার কখনো কখনো সঠিক সিদ্ধান্তের সুফল পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

অলি আহমাদের রাজনৈতিক যাত্রার সাম্প্রতিক অধ্যায়ও সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।

রাষ্ট্রপতি পদ: সম্মান যতটা, অঙ্কও ততটাই

রাষ্ট্রপতি পদ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এখানে আবেগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংখ্যা।

কে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ? কার হাতে কতটি আসন?কার প্রার্থীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য সমর্থন করবেন?

শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে কে বসবেন। অতএব রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমাদের প্রার্থিতা রাজনৈতিকভাবে যতই আলোচিত হোক, বাস্তব সম্ভাবনার হিসাব করতে হলে সংসদের অঙ্ককে সামনে রাখতেই হবে।

এখানেই ‘সিংহাসন’ আর ‘সান্ত্বনা ট্রফি’র পার্থক্য।রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড় এক জিনিস, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আরেক জিনিস।

তাহলে অলি আহমাদের লাভটা কোথায়?

প্রশ্নটি একটু নির্মম শোনালেও রাজনীতিতে প্রশ্নটি বৈধ। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সংসদীয় অঙ্ক তাঁর অনুকূলে না থাকে, তাহলে এই প্রার্থিতার রাজনৈতিক মূল্য কী?

উত্তরটি হয়তো নির্বাচনের ফলাফলে নয়, রাজনৈতিক পরিচিতিতে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া মানে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসা। একটি রাজনৈতিক দল বা জোটের পক্ষে এটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ।

রাজনীতিতে কখনো কখনো মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়াটাই লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

একটি তুলনামূলক ছোট রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিলে তার অর্থ হতে পারে- আমরাও আছি, আমাদেরও রাজনৈতিক অবস্থান আছে। সেই অর্থে অলি আহমাদের প্রার্থিতা তাঁর দল ও জোটের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা।

সান্ত্বনা ট্রফির উপমা কেন আসে?

এখানেই রাজনীতির ব্যঙ্গাত্মক দিকটি সামনে আসে।খেলার মাঠে সবাই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না। কেউ শিরোপা পায়, কেউ রানার্সআপ হয়, কেউ আবার ফেয়ার প্লে ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফেরে।

ট্রফি অবশ্যই ট্রফি। কিন্তু সব ট্রফির মূল্য এক নয়।রাজনীতিতেও তেমন।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়া হলো চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। আর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া- বিশেষ করে যখন সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক অনুকূলে নেই- তখন সেটিকে কেউ কেউ রাজনৈতিক সান্ত্বনা ট্রফি বলতে পারেন।

অবশ্য অলি আহমাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বিবেচনায় এই উপমা কিছুটা কঠোরও বটে। কারণ তিনি কোনো নবাগত রাজনীতিক নন। তাঁর মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা আছে, সামরিক বীরত্বের স্বীকৃতি আছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে।

তাই তাঁর প্রার্থিতাকে শুধু ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। বরং বলা যায়- রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন, বিতর্কিত এবং কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়।

জোটের রাজনীতি কি আদর্শকে হারিয়ে দিচ্ছে?

অলি আহমাদের প্রার্থিতা একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে- বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট কি এখন আদর্শের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

রাজনীতিতে জোট প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা থাকতেই পারে। নির্বাচনী রাজনীতিতে কৌশলগত জোটও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন একটি জোটের শরিকদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের ইতিহাস, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অভিযোগে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক শক্তি- দুই পক্ষ যখন একই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়ায়, তখন জনগণের প্রশ্ন আসবেই।

জোটের ব্যাখ্যা হতে পারে- রাজনৈতিক বাস্তবতা। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন হতে পারে- আদর্শের বাস্তবতা কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অলি আহমাদকে নয়, তাঁর সমর্থকদেরও দিতে হবে।

রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু নেই- কিন্তু ইতিহাস আছে

রাজনীতির বহুল প্রচলিত একটি কথা- স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই, স্থায়ী হলো স্বার্থ। কথাটি হয়তো রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় যোগ করতে হয়- স্বার্থ পরিবর্তন হতে পারে, ইতিহাস পরিবর্তন হয় না।

আজকের জোট আগামীকাল থাকবে না। আজকের রাজনৈতিক বন্ধু কাল প্রতিপক্ষ হতে পারেন। কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস একই থাকবে।

এই জায়গাতেই রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার সংঘাত তৈরি হয়। অলি আহমাদের প্রার্থিতা সেই সংঘাতকে আবারও সামনে এনেছে।

বঙ্গভবনের দরজা কি খুলবে?

শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে সরল- অলি আহমাদ কি রাষ্ট্রপতি হবেন?

এর উত্তর দেওয়ার জন্য আবেগের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সংসদের অঙ্ক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে পক্ষ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

অলি আহমাদের সামনে সেই অঙ্ক কতটা অনুকূল, সেটিই মূল প্রশ্ন। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি হন বা না হন, একটি বিষয় ইতোমধ্যেই নিশ্চিত- তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন। আর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এক প্রবীণ নেতার জন্য এটিও কম অর্জন নয়।

সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

অলি আহমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ রাজনীতিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।

জোট বদলাতে পারে। সমীকরণ বদলাতে পারে। সংসদের অঙ্ক বদলাতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তাঁর প্রার্থিতা যতটা না বঙ্গভবনে পৌঁছানোর নিশ্চিত সিঁড়ি, তার চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক বার্তা।

এটি তাঁর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ঘোষণা। তাঁর জোটের রাজনৈতিক উপস্থিতির ঘোষণা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিরও একটি প্রতিচ্ছবি।

তাই প্রশ্নটি থেকেই যায়- রাষ্ট্রপতির দৌড়ে অলি আহমাদ: সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

হয়তো সময় বলবে, এটি ছিল সিংহাসনের লড়াই।হয়তো ইতিহাস বলবে, এটি ছিল রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এক অভিনব প্রচেষ্টা।

আর হয়তো ব্যঙ্গপ্রিয় রাজনৈতিক দর্শক বলবে- চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি না হোক, অন্তত ট্রফির মঞ্চে ওঠার সুযোগ তো মিলেছে!

তবে রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- কোনো ট্রফিই শেষ কথা নয়। আজকের সান্ত্বনা ট্রফি আগামী দিনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে। আবার আজকের বড় স্বপ্ন আগামীকাল রাজনৈতিক পরিহাসের উপাদানও হতে পারে।

এই কারণেই রাজনীতি এত আকর্ষণীয়। এখানে কেউ স্থায়ীভাবে জয়ী নয়, কেউ স্থায়ীভাবে পরাজিতও নয়।

শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই বিচার করে- কে কোন সময়ে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কেন নিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত তাঁকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল।

অলি আহমাদের সামনেও এখন সেই ইতিহাসেরই নতুন এক অধ্যায়। বঙ্গভবনের দরজা তাঁর জন্য খুলবে কি না, সেটি হয়তো সংসদের অঙ্ক বলবে; কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাঁর এই রাজনৈতিক বাঁকটি কোন নামে লেখা হবে- সেটি ঠিক করবে সময়।

আর রাজনীতির মঞ্চে এটাই সবচেয়ে বড় রহস্য- কেউ সিংহাসনের জন্য দৌড়ান, কেউ ট্রফির জন্য; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই ঠিক করে, কে সত্যিই বিজয়ী।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক | সাংবাদিক | কলামিস্ট | বিশ্লেষক


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির দৌড়ে অলি আহমাদ: সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

রাজনীতি বড়ই অদ্ভুত এক মঞ্চ। এখানে ইতিহাস কখনো সরল পথে হাঁটে না, রাজনৈতিক সমীকরণও স্থির থাকে না। গতকালের সহযোদ্ধা আজকের প্রতিপক্ষ হতে পারেন, আবার একসময়ের রাজনৈতিক বিরোধী পরদিন হয়ে উঠতে পারেন জোটসঙ্গী। রাজনীতির এই চিরপরিবর্তনশীল মঞ্চে কর্নেল (অব.) অলি আহমাদ বীর বিক্রমের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তাই নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এর ভেতরে আছে ইতিহাস, আদর্শ, জোটের হিসাব এবং ক্ষমতার অঙ্ক।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন প্রবীণ নেতা- অলি আহমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের সূচনাটা নিঃসন্দেহে গৌরবের। তাঁর সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনীতির পথ বদলেছে। বদলেছে রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় সম্পর্ক এবং জোটের সমীকরণও।

আজ সেই অলি আহমাদের নাম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। আর তাঁর পেছনে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন। এখানেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহলের নতুন অধ্যায়।

কারণ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের গভীরভাবে বিতর্কিত একটি অধ্যায়। আর সেই ইতিহাসের এক গৌরবময় অংশের সঙ্গে যাঁর নিজের পরিচয় জড়িয়ে- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা- তিনি যখন জামায়াত-সমর্থিত রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হন, তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এটি কি কেবল সময়ের দাবি?

নাকি রাজনীতির প্রয়োজনের কাছে ইতিহাস ও আদর্শের সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে?

ইতিহাসের এক অদ্ভুত পরিহাস

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো- এটি কাউকে তার অতীত থেকে মুক্তি দেয় না। রাজনীতিতে দল বদলানো যায়, জোট বদলানো যায়, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু অতীতের ঘটনাগুলোকে নতুন করে লেখা যায় না।

অলি আহমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নামের সঙ্গে ‘বীর বিক্রম’ উপাধি যুক্ত।

অন্যদিকে যে রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বাধীন জোট তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে গভীর বিতর্ক ও সমালোচনা।

এই দুই বাস্তবতা যখন একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসের সামনে একটি আয়না ধরে। সেই আয়নায় কে কী দেখবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

কেউ দেখবেন রাজনৈতিক বাস্তবতা। কেউ দেখবেন জোটের কৌশল। কেউ দেখবেন আদর্শের পরিবর্তন। আবার কেউ হয়তো দেখবেন- সময় কীভাবে রাজনীতির চরিত্র বদলে দেয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজকের অবস্থান

অলি আহমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর একসময় মতপার্থক্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং বিএনপির বাইরে অবস্থান নেন।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক নয়। একজন রাজনীতিক তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী নতুন দল গঠন করতে পারেন, জোট পরিবর্তন করতে পারেন, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যেতে পারেন।

কিন্তু রাজনীতির একটি কঠিন নিয়ম আছে- প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি রাজনৈতিক মূল্য থাকে। দল ছাড়ার মূল্য আছে। জোট পরিবর্তনের মূল্য আছে। নির্বাচনে ভুল কৌশলের মূল্য আছে। আবার কখনো কখনো সঠিক সিদ্ধান্তের সুফল পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

অলি আহমাদের রাজনৈতিক যাত্রার সাম্প্রতিক অধ্যায়ও সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।

রাষ্ট্রপতি পদ: সম্মান যতটা, অঙ্কও ততটাই

রাষ্ট্রপতি পদ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এখানে আবেগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংখ্যা।

কে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ? কার হাতে কতটি আসন?কার প্রার্থীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য সমর্থন করবেন?

শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে কে বসবেন। অতএব রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমাদের প্রার্থিতা রাজনৈতিকভাবে যতই আলোচিত হোক, বাস্তব সম্ভাবনার হিসাব করতে হলে সংসদের অঙ্ককে সামনে রাখতেই হবে।

এখানেই ‘সিংহাসন’ আর ‘সান্ত্বনা ট্রফি’র পার্থক্য।রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড় এক জিনিস, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আরেক জিনিস।

তাহলে অলি আহমাদের লাভটা কোথায়?

প্রশ্নটি একটু নির্মম শোনালেও রাজনীতিতে প্রশ্নটি বৈধ। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সংসদীয় অঙ্ক তাঁর অনুকূলে না থাকে, তাহলে এই প্রার্থিতার রাজনৈতিক মূল্য কী?

উত্তরটি হয়তো নির্বাচনের ফলাফলে নয়, রাজনৈতিক পরিচিতিতে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া মানে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসা। একটি রাজনৈতিক দল বা জোটের পক্ষে এটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ।

রাজনীতিতে কখনো কখনো মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়াটাই লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

একটি তুলনামূলক ছোট রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিলে তার অর্থ হতে পারে- আমরাও আছি, আমাদেরও রাজনৈতিক অবস্থান আছে। সেই অর্থে অলি আহমাদের প্রার্থিতা তাঁর দল ও জোটের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা।

সান্ত্বনা ট্রফির উপমা কেন আসে?

এখানেই রাজনীতির ব্যঙ্গাত্মক দিকটি সামনে আসে।খেলার মাঠে সবাই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না। কেউ শিরোপা পায়, কেউ রানার্সআপ হয়, কেউ আবার ফেয়ার প্লে ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফেরে।

ট্রফি অবশ্যই ট্রফি। কিন্তু সব ট্রফির মূল্য এক নয়।রাজনীতিতেও তেমন।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়া হলো চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। আর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া- বিশেষ করে যখন সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক অনুকূলে নেই- তখন সেটিকে কেউ কেউ রাজনৈতিক সান্ত্বনা ট্রফি বলতে পারেন।

অবশ্য অলি আহমাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বিবেচনায় এই উপমা কিছুটা কঠোরও বটে। কারণ তিনি কোনো নবাগত রাজনীতিক নন। তাঁর মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা আছে, সামরিক বীরত্বের স্বীকৃতি আছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে।

তাই তাঁর প্রার্থিতাকে শুধু ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। বরং বলা যায়- রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন, বিতর্কিত এবং কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়।

জোটের রাজনীতি কি আদর্শকে হারিয়ে দিচ্ছে?

অলি আহমাদের প্রার্থিতা একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে- বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট কি এখন আদর্শের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

রাজনীতিতে জোট প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা থাকতেই পারে। নির্বাচনী রাজনীতিতে কৌশলগত জোটও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন একটি জোটের শরিকদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের ইতিহাস, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অভিযোগে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক শক্তি- দুই পক্ষ যখন একই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়ায়, তখন জনগণের প্রশ্ন আসবেই।

জোটের ব্যাখ্যা হতে পারে- রাজনৈতিক বাস্তবতা। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন হতে পারে- আদর্শের বাস্তবতা কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অলি আহমাদকে নয়, তাঁর সমর্থকদেরও দিতে হবে।

রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু নেই- কিন্তু ইতিহাস আছে

রাজনীতির বহুল প্রচলিত একটি কথা- স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই, স্থায়ী হলো স্বার্থ। কথাটি হয়তো রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় যোগ করতে হয়- স্বার্থ পরিবর্তন হতে পারে, ইতিহাস পরিবর্তন হয় না।

আজকের জোট আগামীকাল থাকবে না। আজকের রাজনৈতিক বন্ধু কাল প্রতিপক্ষ হতে পারেন। কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস একই থাকবে।

এই জায়গাতেই রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার সংঘাত তৈরি হয়। অলি আহমাদের প্রার্থিতা সেই সংঘাতকে আবারও সামনে এনেছে।

বঙ্গভবনের দরজা কি খুলবে?

শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে সরল- অলি আহমাদ কি রাষ্ট্রপতি হবেন?

এর উত্তর দেওয়ার জন্য আবেগের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সংসদের অঙ্ক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে পক্ষ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

অলি আহমাদের সামনে সেই অঙ্ক কতটা অনুকূল, সেটিই মূল প্রশ্ন। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি হন বা না হন, একটি বিষয় ইতোমধ্যেই নিশ্চিত- তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন। আর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এক প্রবীণ নেতার জন্য এটিও কম অর্জন নয়।

সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

অলি আহমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ রাজনীতিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।

জোট বদলাতে পারে। সমীকরণ বদলাতে পারে। সংসদের অঙ্ক বদলাতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তাঁর প্রার্থিতা যতটা না বঙ্গভবনে পৌঁছানোর নিশ্চিত সিঁড়ি, তার চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক বার্তা।

এটি তাঁর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ঘোষণা। তাঁর জোটের রাজনৈতিক উপস্থিতির ঘোষণা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিরও একটি প্রতিচ্ছবি।

তাই প্রশ্নটি থেকেই যায়- রাষ্ট্রপতির দৌড়ে অলি আহমাদ: সিংহাসন, নাকি সান্ত্বনা ট্রফি?

হয়তো সময় বলবে, এটি ছিল সিংহাসনের লড়াই।হয়তো ইতিহাস বলবে, এটি ছিল রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এক অভিনব প্রচেষ্টা।

আর হয়তো ব্যঙ্গপ্রিয় রাজনৈতিক দর্শক বলবে- চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি না হোক, অন্তত ট্রফির মঞ্চে ওঠার সুযোগ তো মিলেছে!

তবে রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- কোনো ট্রফিই শেষ কথা নয়। আজকের সান্ত্বনা ট্রফি আগামী দিনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে। আবার আজকের বড় স্বপ্ন আগামীকাল রাজনৈতিক পরিহাসের উপাদানও হতে পারে।

এই কারণেই রাজনীতি এত আকর্ষণীয়। এখানে কেউ স্থায়ীভাবে জয়ী নয়, কেউ স্থায়ীভাবে পরাজিতও নয়।

শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই বিচার করে- কে কোন সময়ে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কেন নিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত তাঁকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল।

অলি আহমাদের সামনেও এখন সেই ইতিহাসেরই নতুন এক অধ্যায়। বঙ্গভবনের দরজা তাঁর জন্য খুলবে কি না, সেটি হয়তো সংসদের অঙ্ক বলবে; কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাঁর এই রাজনৈতিক বাঁকটি কোন নামে লেখা হবে- সেটি ঠিক করবে সময়।

আর রাজনীতির মঞ্চে এটাই সবচেয়ে বড় রহস্য- কেউ সিংহাসনের জন্য দৌড়ান, কেউ ট্রফির জন্য; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই ঠিক করে, কে সত্যিই বিজয়ী।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক | সাংবাদিক | কলামিস্ট | বিশ্লেষক


প্রিন্ট