লক্ষ্মীপুরে বাজুস নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সমীর কর্মকার
- আপডেট সময় ০৬:১১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মেসার্স লোকনাথ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সমীর কর্মকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ সমীর কর্মকার তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ‘বাজুস নিয়ে ভাবনা, ব্যবসায়ীদের প্রতি কমিটমেন্ট’ শিরোনামের ইশতেহারে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসায়ীবান্ধব করার লক্ষ্যে ১০ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন।
ইশতেহারে লক্ষ্মীপুর জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ী, মহাজন, কারিগর ও সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমীর কর্মকার বলেন, বাজুস শুধু একটি ব্যবসায়ী সংগঠন নয়; এটি দেশের স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, আধুনিক, ব্যবসায়ীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
ইশতেহারে ১০ দফা অঙ্গীকার
সমীর কর্মকারের ঘোষিত ইশতেহারে জেলা শহরে বাজুসের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের সব জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে বাজুসের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং তাদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
মহাজনী ও বন্ধকী ব্যবসার জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া স্বর্ণালংকার ক্রয়-বিক্রয়ের পর উদ্ভূত বিভিন্ন জটিলতা ও বিরোধের কার্যকর সমাধানে সংগঠনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সমীর কর্মকার। জেলা মহাজনী কমিটিকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি স্বর্ণ কারিগর ও শ্রমিকদের নিয়ে ‘স্বর্ণ শ্রমিক ফেডারেশন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ইশতেহারে রয়েছে।
গোল্ড টেস্টিং ও হলমার্কিং ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ
ইশতেহারে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে স্বনামধন্য ও বড় ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গোল্ড টেস্টিং ও হলমার্কিং ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সমীর কর্মকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ ধরনের একটি পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্বর্ণের মান যাচাইয়ের জন্য ব্যবসায়ী, কারিগর, মহাজন ও সাধারণ ক্রেতাদের সেবা পাওয়া আরও সহজ হবে।
আর্থিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
এতে নির্ধারিত মাসিক চাঁদা নিয়মিত সংগ্রহ, আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ত্রৈমাসিক সভায় তা সদস্যদের সামনে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠনের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়মতো নির্বাচন ও দায়িত্ব হস্তান্তরের অঙ্গীকার
বাজুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ করে ২০২৮-২০৩০ মেয়াদের নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথাও তাঁর ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
‘ঐক্যবদ্ধ ব্যবসায়ী সমাজ, স্বচ্ছ সংগঠন’
ইশতেহারের শেষদিকে বাজুসের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষ সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সমীর কর্মকার।
তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে- ‘ঐক্যবদ্ধ ব্যবসায়ী সমাজ, স্বচ্ছ সংগঠন, নিরাপদ ব্যবসা, উন্নত সেবা, শক্তিশালী বাজুস।’
সমীর কর্মকার বলেন, একজন চেয়ারম্যান একা কোনো সংগঠনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেন না। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সব ব্যবসায়ীর ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের দোয়া, আশীর্বাদ, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেন।
প্রিন্ট























