আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫২২ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদের প্লেনারি হলে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় না হয়। নির্বাচন কমিশন, সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভোট গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট শুরুর প্রথম ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী কোনো সংসদ সদস্য হলে তার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে। ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায় এবং ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার কার্যক্রমও সম্প্রচার করা হবে।
চিফ হুইপ জানান, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন।
ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য
সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। অর্থাৎ কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সাদা কাগজে কালো কালিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট ছাপানো হয়েছে। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে।
‘ঐতিহাসিক নির্বাচন’ বলছে ইসি
বুধবার নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন হওয়ায় এবার ভোটকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলে তারা মনে করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরতে চেয়েছেন তারা।
সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ১৯৯১ সালে
দেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। নির্বাচনে জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
এরপর প্রায় ৩৫ বছর ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আজকের নির্বাচনে দুই প্রার্থী মুখোমুখি হওয়ায় এবারের ভোটকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রিন্ট























