২,৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
- আপডেট সময় ১০:২৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাত ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ও তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকাকালে কথিত ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে দুদকে অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামে একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগে আরও বলা হয়, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ব্যবসায়ী এস আলম ভূমিকা রাখেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন এবং ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদন এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব অসঙ্গতির ভিত্তিতেই দুদকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আইনগতভাবে প্রমাণিত নয়। দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারিত হবে।
ইসলামী ব্যাংকের এ অভিযোগের পর ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা, ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।
প্রিন্ট




















