গ্যাস নেই, উৎপাদন নেই: শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ কোথায়?
- আপডেট সময় ০৬:৪৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্য গ্যাস সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়। বছরের পর বছর ধরে শিল্প উদ্যোক্তারা কম চাপ, অনিয়মিত সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা বলে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক প্রায় ২০ দিনের সংকটের তীব্রতা পুরোনো সমস্যাটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে টেক্সটাইল, নিটওয়্যার, ডাইং ও ফিনিশিংসহ গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানায় উৎপাদন কমাতে হয়েছে, কোথাও কোথাও উৎপাদন বন্ধও রাখতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কিছু শিল্পাঞ্চলে এখনো স্বাভাবিক চাপ ফেরেনি। ফলে প্রশ্নটি কেবল ‘কবে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে’- এতে সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ কি এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকবে, যেখানে সরবরাহে সামান্য বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেই উৎপাদনব্যবস্থা ধাক্কা খায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সাম্প্রতিক সংকটের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাসনীতি, দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি, এলএনজি আমদানিনির্ভরতা এবং শিল্পে জ্বালানি ব্যবহারের ধরন- সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হবে।
সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ
সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড। ওই টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে টার্মিনালটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কারিগরি জটিলতা ও আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।
বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি করা এলএনজি এসব টার্মিনালের মাধ্যমে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ফলে একটি টার্মিনাল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
তবে এখানেই সমস্যার শেষ নয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর যদি জাতীয় গ্যাস সরবরাহে এত বড় চাপ তৈরি হয়, তাহলে সরবরাহব্যবস্থায় বিকল্প সক্ষমতা ও নিরাপত্তা-বাফার কতটা রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ঘটনা তাই দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাকেও দৃশ্যমান করেছে।
চাহিদা বাড়ছে, দেশীয় উৎপাদন কমছে
বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহের চেয়ে বেশি। শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, আবাসিক ব্যবহার ও পরিবহন- সব মিলিয়ে গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। বিপরীতে দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর অনেকগুলোতে উৎপাদন কমে এসেছে।
এই ব্যবধান পূরণে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এটি ছিল বাস্তবতার প্রয়োজনেই নেওয়া একটি পদক্ষেপ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে আমদানির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট গ্যাস সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সমুদ্রপথে সমস্যা কিংবা টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি- যেকোনো একটি ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
এখানে প্রশ্নটি তাই কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তারও প্রশ্ন।
শিল্পে সংকটের প্রভাব
গ্যাস সংকটের প্রভাব সব শিল্পে সমান নয়। কিছু শিল্প বিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভরশীল, আবার কিছু শিল্পে গ্যাস সরাসরি উৎপাদন প্রক্রিয়ার অংশ।
টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও ফিনিশিং শিল্পে গ্যাসের প্রয়োজন তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বয়লার ও তাপভিত্তিক বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেলে শুধু উৎপাদনের গতি কমে না; পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়াই ব্যাহত হতে পারে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো- কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যয় বন্ধ থাকে না। শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি ও সুদ, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, জমি ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় চালু থাকে। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকায় সেই ব্যয়ের বিপরীতে আয় থাকে না।
ফলে কয়েক দিনের সংকটও একটি কারখানার জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
রপ্তানি অর্ডার নিয়ে উদ্বেগ
গ্যাস সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে রপ্তানি খাতে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য সরবরাহের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। কোনো অর্ডারের উৎপাদন বিলম্বিত হলে সেটি নির্ধারিত সময়ে জাহাজে পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে। তখন দ্রুত পণ্য পাঠাতে বিমানপথ ব্যবহার করতে হয়, যার খরচ অনেক বেশি।
এর ফলে উদ্যোক্তার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে মূল্যছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বারবার সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি হিসাব প্রয়োজন। কিন্তু সংকট দীর্ঘ হলে উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ঝুঁকি বাড়তে পারে- এ সম্ভাবনা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এলএনজি কি একমাত্র ভরসা?
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এলএনজি আমদানি প্রয়োজনীয়। দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার ক্ষেত্রে এর বিকল্প সীমিত।
কিন্তু এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাও যুক্ত হয়ে যায়।
এ ছাড়া এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহকারী দেশ এবং সমুদ্রপথের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে হয়।
তাই এলএনজি প্রয়োজনীয় হলেও সেটিকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একমাত্র ভিত্তি করা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর কেন জরুরি
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো।
পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে আসছে। তাই নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপের উৎপাদনক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন এবং স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় নতুন অনুসন্ধান প্রয়োজন।
ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ, পুরোনো কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই এবং সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন দ্রুত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে এখানে বাস্তববাদী হওয়া জরুরি। গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করলেই গ্যাস পাওয়া যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি কূপ খননের পর সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হয়। তাই অনুসন্ধানের পাশাপাশি সময়, ব্যয় এবং সম্ভাব্য উৎপাদনের হিসাবও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
বিকল্প জ্বালানি ও দক্ষ ব্যবহারের সুযোগ
শুধু গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের সমাধান করা কঠিন। চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পে যেখানে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব, সেখানে বিদ্যুৎচালিত বয়লার, সৌরবিদ্যুৎ বা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে। শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগও রয়েছে।
তবে কোন শিল্পে কোন বিকল্প জ্বালানি কার্যকর হবে, তা প্রযুক্তিগত ও ব্যয় বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সব শিল্পের জন্য একই সমাধান কার্যকর হবে না।
একই সঙ্গে শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। আধুনিক যন্ত্রপাতি, তাপ পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি এবং উন্নত শক্তি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একই পরিমাণ উৎপাদনে কম জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব।
এতে গ্যাসের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমতে পারে।
অবৈধ সংযোগ ও অপচয় বন্ধ করতে হবে
গ্যাসের ঘাটতির সময়ে অবৈধ সংযোগ ও অপচয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
অবৈধ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি সঠিক মিটারিং, ডিজিটাল মনিটরিং এবং বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। কোথায় কত গ্যাস যাচ্ছে, কোথায় অপচয় হচ্ছে এবং কোন খাতে কতটা ব্যবহার হচ্ছে- এসব তথ্য যত নির্ভুল হবে, পরিকল্পনাও তত কার্যকর হবে।
তবে কঠোরতার পাশাপাশি বৈধ গ্রাহকদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। শিল্প উদ্যোক্তা যদি আগেই জানতে পারেন কোন সময়ে কতটা গ্যাস পাওয়া যাবে, তাহলে তিনি উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবেন।
দুই বছর সময়ের প্রশ্ন
চলমান জ্বালানি সংকটের পূর্ণ সমাধানে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে- এমন বক্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে। নতুন অবকাঠামো তৈরি, গ্যাস অনুসন্ধান এবং উৎপাদন বাড়াতে সময় প্রয়োজন- এটি বাস্তবতা।
কিন্তু এই সময়ের মধ্যে শিল্প কীভাবে চলবে, সেটিও সরকারের পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।
স্বল্পমেয়াদে শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের অগ্রাধিকার, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে সহায়তা, এলএনজি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং সংকটের সময় দ্রুত সমন্বয়- এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
সামনে পথ একটাই- বহুমুখী জ্বালানি নিরাপত্তা
বাংলাদেশের গ্যাস সংকটের কোনো একক সমাধান নেই। এলএনজি আমদানি বাড়ানো যেমন একমাত্র সমাধান নয়, তেমনি শুধু দেশীয় গ্যাসের ওপর নির্ভর করাও বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন একটি বহুমুখী জ্বালানি কৌশল।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। এলএনজি আমদানির উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করতে হবে। শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। অবৈধ সংযোগ ও অপচয় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিল্পের জন্য গ্যাস শুধু একটি জ্বালানি নয়; এটি উৎপাদনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
বাংলাদেশের শিল্পখাত এখন যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেটিকে কেবল সাময়িক সরবরাহ সমস্যা হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকিগুলো অদৃশ্য থেকে যাবে। আবার অতিরঞ্জিত আশঙ্কা তৈরি করাও সমাধান নয়। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা।
বাংলাদেশ যদি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, বিকল্প জ্বালানি এবং জ্বালানি দক্ষতা- এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত অগ্রগতি করতে পারে, তাহলে বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ‘গ্যাস আছে কি নেই’ এতটুকু নয়। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের শিল্পায়নের জন্য আগামী দশকগুলোতে কতটা নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে।
কারণ গ্যাস সরবরাহ অনিশ্চিত হলে উৎপাদন অনিশ্চিত হয়। উৎপাদন অনিশ্চিত হলে রপ্তানি ও বিনিয়োগও ঝুঁকিতে পড়ে। আর শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তাই আজকের গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুধু বেশি গ্যাস নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা।
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক
প্রিন্ট




















