যাত্রাবাড়ীর হত্যাসহ দুটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল
- আপডেট সময় ১১:৩৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫০৭ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় হত্যাসহ দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হত্যা ও অপরটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় সাবেক পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হকসহ ১০৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল।
এ ঘটনায় অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৬৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
যাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান প্রমুখ।
এ মামলায় কামরুল ইসলাম, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তিনজন কারাগারে রয়েছেন।
অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। যাত্রাবাড়ী থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিন উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চার্জশিট গ্রহণ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন তোলারাম কলেজের ছাত্র মেহেদী হাসান প্রান্ত ও নাদিম। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। একটি গুলি প্রান্তের থুতনি দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। নাদিমের বাম হাঁটুতে গুলি লাগে এবং গুলি বের হয়ে যায়।
প্রান্তকে উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাদিম চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। প্রান্তের চাচার পরিচয়ে নাদিম ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
অপরদিকে, যাত্রাবাড়ী থানার রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন যাত্রাবাড়ীর ওই এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান।
শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা বাবুল মৃধা। লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২২ আগস্ট তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তিনজন কারাগারে রয়েছেন। আট আসামি জামিনে এবং অন্যরা পলাতক।
প্রিন্ট



















