ইপিজেড থেকে অ্যাগ্রোভোল্টাইক: বদলে যাওয়ার পথে চাঁদপুর
- আপডেট সময় ০৬:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের উন্নয়ন মানচিত্রে চাঁদপুরের পরিচয় দীর্ঘদিনের- নদী, ইলিশ, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের জেলা। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার জলধারা এই জনপদের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানকার মানুষের জীবনে তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা। তবে সময়ের সঙ্গে একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিচয়ও বদলে যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব থাকলে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর একটি জেলা শিল্প, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
চাঁদপুর এখন যেন তেমনই একটি সম্ভাবনাময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি চাঁদপুরকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বড় আকারের অ্যাগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও নৌযোগাযোগের উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ, নদীভাঙন রোধ ও খাল পুনঃখননের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। আলাদাভাবে এগুলো অবকাঠামোগত বা খাতভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু সমন্বিতভাবে দেখলে এগুলোর মধ্যে চাঁদপুরের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সম্ভাব্য নকশা দেখা যায়।
বিশেষ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে চাঁদপুরের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এই সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের উদ্যোগে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা স্থানীয় উন্নয়ন ভাবনাকে জাতীয় বিনিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এখন প্রয়োজন এই সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তব ও টেকসই উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া।
ইপিজেড হতে পারে নতুন অর্থনীতির দরজা
চাঁদপুরে আধুনিক একটি ইপিজেড বা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে এর প্রভাব শুধু কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠে পরিবহন, গুদাম, লজিস্টিকস, ব্যাংকিং, আবাসন, খাবার, খুচরা ব্যবসা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও নানা ধরনের সেবা। অর্থাৎ একটি ইপিজেড একটি জেলার অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
চাঁদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। নদীপথ, আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ উন্নত করা গেলে চাঁদপুরকে একটি আঞ্চলিক উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সরকারি খাস জমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পাঞ্চলের জায়গা নির্ধারণ করা গেলে কৃষিজমি ও বসতভিটার ওপর চাপও তুলনামূলকভাবে কমানো সম্ভব হবে। তবে জমি নির্ধারণের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের ধরন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহনব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শুধু শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দ নয়, প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প-ইকোসিস্টেম।
একই জমিতে কৃষি ও সৌরবিদ্যুৎ
চাঁদপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা অ্যাগ্রোভোল্টাইক প্রযুক্তি। মতলব উত্তর উপজেলায় বড় পরিসরে অ্যাগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। এই প্রযুক্তির মূল ধারণা হলো- একই ভূমিতে কৃষিকাজ চালু রেখে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের একদিকে কৃষিজমির ওপর শিল্প, আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের চাপ বাড়ছে; অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তাই একই ভূমি থেকে কৃষি ও বিদ্যুৎ- দুই ধরনের উৎপাদন সম্ভব হলে তা ভবিষ্যৎ ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। চাঁদপুর এ ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
তবে বড় প্রকল্প মানেই বড় দায়িত্ব। জমির মালিকানা, কৃষকের স্বার্থ, ফসল উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন, মাটির গুণাগুণ, সৌর প্যানেলের বিন্যাস, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব- সবকিছু বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা জরুরি। কৃষিজমি রক্ষার নীতিটি প্রকল্পের নকশাতেও বাস্তবায়িত হতে হবে।
সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে চাঁদপুর বাংলাদেশের অ্যাগ্রোভোল্টাইক উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
কৃষি থাকবে, তবে বাড়বে মূল্য সংযোজন
চাঁদপুরের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি কৃষি ও মৎস্য। তাই শিল্পায়নের অর্থ কৃষিকে পিছনে ফেলে দেওয়া নয়। বরং কৃষিকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই হওয়া উচিত উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিযন্ত্র এবং রপ্তানিমুখী অ্যাগ্রো-প্রসেসিং শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় উৎপাদকরা তাঁদের পণ্যের ভালো মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এখানে চাঁদপুরের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক শুধু কাঁচামাল বিক্রি করবেন না; বরং উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণের মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।
সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ জনগোষ্ঠী
যে কোনো শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- কর্মসংস্থান হবে কার?
চাঁদপুরের তরুণদের জন্য ইপিজেড, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, লজিস্টিকস ও সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সে জন্য এখন থেকেই দক্ষতা উন্নয়নের প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিল্পাঞ্চলে শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, প্রয়োজন হবে মেশিন অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, আইটি কর্মী, হিসাবরক্ষক, কোয়ালিটি কন্ট্রোল কর্মকর্তা, লজিস্টিকস কর্মী, সুপারভাইজার ও ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীর।
তাই চাঁদপুরের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পলিটেকনিক, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে সম্ভাব্য শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। শিল্প আসার পরে প্রশিক্ষণের পরিবর্তে শিল্প আসার আগেই দক্ষতা তৈরি করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ‘Chandpur Skill Development Mission’ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শিল্পের সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপণ করে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীই উন্নয়নের প্রধান অংশীদার হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় হোক জ্ঞান ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশও এই অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি হতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র।
অ্যাগ্রোভোল্টাইক প্রযুক্তি, কৃষি-প্রযুক্তি, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য সংরক্ষণ, নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করা গেলে চাঁদপুরের নিজস্ব সমস্যার স্থানীয় সমাধানও বেরিয়ে আসতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে উঠলে গবেষণার ফল বাস্তব অর্থনীতিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
নদী হবে শুধু দুর্যোগ নয়, অর্থনীতির সম্পদ
চাঁদপুরের নদীকে শুধু নদীভাঙনের উৎস হিসেবে দেখলে একটি বড় সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা হবে। নদীপথকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবেও দেখতে হবে।
আধুনিক নৌবন্দর, কার্গো পরিবহন, গুদাম, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকস অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে নদীপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানো সম্ভব। কৃষিপণ্য, মাছ ও শিল্পপণ্য দ্রুত ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে।
সড়ক ও নৌপথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পনা করতে হবে। এভাবেই চাঁদপুর একটি কার্যকর ‘Logistics Corridor’-এ পরিণত হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নও অর্থনীতির অংশ
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে শুধু কারখানা ও রাস্তা যথেষ্ট নয়; মানুষের স্বাস্থ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়।
হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, জরুরি সেবা, আইসিইউ, আধুনিক অস্ত্রোপচার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নার্সিং, মেডিকেল টেকনোলজি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্য খাতেও স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
প্রয়োজন একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান
চাঁদপুরের সামনে এখন অনেকগুলো সম্ভাবনার দরজা খুলছে। কিন্তু এগুলো যদি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে এগোয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক রূপান্তর নাও ঘটতে পারে। তাই প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘Chandpur Economic Development Master Plan’।
এই পরিকল্পনায় শিল্পায়ন, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নদীপথ, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
ইপিজেড বিনিয়োগ আনবে, অ্যাগ্রোভোল্টাইক নতুন জ্বালানি অর্থনীতির সুযোগ তৈরি করবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প উৎপাদনে মূল্য সংযোজন করবে, বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ জনশক্তি ও উদ্ভাবন তৈরি করবে, আর উন্নত যোগাযোগ ব্যবসার খরচ কমাবে। নদীভাঙন রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষা এসব বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে। এটাই হতে পারে চাঁদপুরের নতুন উন্নয়ন মডেল।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সামনে সুযোগ
চাঁদপুরের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বিডাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সামনে তাই একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই সুযোগের সাফল্য নির্ভর করবে কতটি প্রকল্পের ঘোষণা হলো তার ওপর নয়; বরং কতগুলো উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেল, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো এবং স্থানীয় মানুষ কতটা উপকৃত হলেন- তার ওপর।
তাই প্রতিটি বড় প্রকল্পের অগ্রগতি, সম্ভাব্য ব্যয়, বাস্তবায়নকাল, কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ও পরিবেশগত প্রভাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
উন্নয়নের সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে রাজনৈতিক উদ্যোগও দীর্ঘস্থায়ী জনসমর্থন পায়।
এখন সময় সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার
চাঁদপুরের সামনে যে সম্ভাবনার ছবি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু উন্নয়ন শুধু ঘোষণা দিয়ে আসে না। ঘোষণা আশার জন্ম দেয়, বাস্তবায়ন মানুষের জীবন বদলায়।
চাঁদপুর যদি আগামী দিনের শিল্প, কৃষি-প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের একটি আধুনিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হতে চায়, তাহলে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রথম কাজ হতে পারে প্রকল্পভিত্তিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা। এরপর উপযুক্ত জমি ও ল্যান্ড ব্যাংক, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প ও কৃষির সংযোগ, সমন্বিত সড়ক-নৌ যোগাযোগ এবং একটি উন্মুক্ত প্রকল্প-তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। সবচেয়ে বড় কথা, উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে মানুষকে।
আজকের চাঁদপুর নদী, ইলিশ, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের জন্য পরিচিত। আগামী দিনের চাঁদপুর সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই শিল্প, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে।
ইপিজেড থেকে অ্যাগ্রোভোল্টাইক- এটি শুধু দুটি প্রকল্পের কথা নয়। এটি চাঁদপুরের অর্থনৈতিক পরিচয় বদলে দেওয়ার একটি সম্ভাব্য সূচনা।
এখন প্রয়োজন স্বপ্নকে পরিকল্পনায়, পরিকল্পনাকে বিনিয়োগে এবং বিনিয়োগকে মানুষের জীবনমানের দৃশ্যমান পরিবর্তনে রূপান্তর করা।
চাঁদপুরের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন নতুন শিল্পের পাশাপাশি কৃষকের আয় বাড়বে, তরুণের কর্মসংস্থান হবে, উদ্যোক্তা তৈরি হবে, নদী নিরাপদ হবে, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে এবং উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে জেলার প্রত্যন্ত জনপদেও।
তখনই বলা যাবে- চাঁদপুর শুধু বদলাচ্ছে না; চাঁদপুর নিজের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে।
ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক
প্রিন্ট
















