ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo মালয়েশিয়ায় অভিযানে ২৫২ জন আটক, ১৬৪ জনই বাংলাদেশি Logo রাষ্ট্রপতির শপথের পর মন্ত্রিসভায় শপথ নিলেন মঈন খান, পার্থ, সাচিং ও শামীম Logo মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, আজই শপথের আভাস Logo রুহুল কবির রিজভী হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব Logo ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন Logo ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত Logo ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু : সবাই বাংলাদেশি Logo বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান : শামা ওবায়েদ ইসলাম। Logo ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতীক হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্ক কেন?

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
  • আপডেট সময় ০৪:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫৩৩ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিতে আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আস্থার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইন মেনে চলার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, আইনগত অবস্থান ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রশ্ন উঠবে, আলোচনা হবে, সমালোচনাও হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটিই স্বাভাবিক।

সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের স্বচ্ছতা, বিদেশি নাগরিকত্বের প্রশ্ন, সংবিধানের বিধান, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়।

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পর ২৩ আগস্ট সরকার তাঁর ও আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে। সরকারি দায়িত্ব বণ্টনের সংবাদ অনুযায়ী, হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহায়তা করবেন।

অর্থাৎ এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী পদ নয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে। ফলে তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আইনগত অবস্থান নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব

বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হুমায়ুন কবিরের কথিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব।

২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রশ্নটির সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন করেন- ‘কার এত জ্বালা?’

এখানেই বিতর্কের মূল জায়গা। একজন ব্যক্তি বাংলাদেশি- এটি এক বিষয়। তিনি অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করেছিলেন কি না- এটি আরেক বিষয়। আর যদি ধারণ করে থাকেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেটি আইনগতভাবে ত্যাগ করেছিলেন কি না- সেটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রশ্ন।

এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি একটি প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়াও বিতর্কের অবসান ঘটায় না।

হুমায়ুন কবিরের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁর সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাই- দুটিও আলাদা বিষয়। একজন ব্যক্তি দেশপ্রেমিক হতে পারেন; কিন্তু রাষ্ট্রীয় পদে তাঁর যোগ্যতা নির্ধারিত হবে সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে।

তাই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের সবচেয়ে কার্যকর উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্য নয়- প্রামাণ্য নথি।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্তত নয়-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সংসদের বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মন্ত্রিসভায় নিয়োগের সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ। ৬৬(১) অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া এবং কমপক্ষে ২৫ বছর বয়সী হওয়া প্রয়োজন। ৬৬(২)(গ)-তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে অথবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হন। একই সঙ্গে ৬৬(২এ)-তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি বিদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার পর দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।

অতএব, শুধু কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে হুমায়ুন কবিরকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা দায়িত্বশীল হবে না। আবার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রয়োজন হলো- তথ্য যাচাই, নথি যাচাই এবং আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করা।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে Declaration of Renunciation-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদন গ্রহণ ও নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘declaration of renunciation’ দেওয়া হয়, যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ উল্লেখ থাকে। ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় এটিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয় তখনই, যখন declaration নিবন্ধিত হয়। ফলে ‘ত্যাগের আবেদন করেছেন’ এবং ‘আইনগতভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয়েছে’- এ দুটি বিষয়ও এক নয়।

এই কারণে হুমায়ুন কবির যদি অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করে থাকেন এবং পরে তা ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে বিতর্কের সবচেয়ে পরিষ্কার সমাধান হতে পারে তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট আইনগত নথি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।

এতে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা নয়। বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির স্বচ্ছতা জনআস্থা বাড়াতে পারে।

Companies House-এর তথ্য কি চূড়ান্ত প্রমাণ?

হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাজ্যের Companies House-এর তথ্যের কথাও এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে কোম্পানি-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানে সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি মনে রাখা প্রয়োজন। কোনো কোম্পানি রেজিস্ট্রির নথিতে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য থাকা এবং একজন ব্যক্তির বর্তমান আইনগত নাগরিকত্বের চূড়ান্ত অবস্থান প্রমাণিত হওয়া- একই বিষয় নয়।

Companies House-এর তথ্য অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। কিন্তু নাগরিকত্বের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্বের নথি, নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত দলিল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনগত প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও ভাষার সূক্ষ্মতা গুরুত্বপূর্ণ।

‘তিনি ব্রিটিশ নাগরিক’- এমন নিশ্চিত দাবি এবং ‘নথিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া গেছে’- এই দুই বাক্যের আইনগত ও সাংবাদিকতাগত তাৎপর্য এক নয়। এই পার্থক্য বজায় রাখাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয়।

দ্রুত উত্থানও কি প্রশ্নের কারণ?

হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক উত্থানও জনমনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এরপর দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টনে তাঁকে ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১’ করা হয়েছে।

এই দ্রুত উত্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে- তাঁর বিশেষ যোগ্যতা কী? আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কতটা? সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা কী? কেন তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো?

এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। কারণ টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা সাধারণত তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষ জ্ঞান। সুতরাং হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরলে বিতর্কের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরীক্ষা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের সামনে এখন বাস্তব কাজের বড় ক্ষেত্রও রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতির মতো বিষয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ যোগাযোগ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তাঁর বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে।

একইভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ নিয়েও তিনি বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন কিছু মাত্রা সামনে আসতে পারে।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্য। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সহজ কাজ নয়।

তাই হুমায়ুন কবিরের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে- বক্তৃতা নয়, বাস্তব কূটনৈতিক ফলাফল।

তাহলে বিতর্কের কারণ কী?

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট।

প্রথমত, দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দ্রুত আসা যে কোনো ব্যক্তিকে ঘিরেই স্বাভাবিকভাবে জনকৌতূহল তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, বিদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। বিদেশে বসবাস, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে মূল্যবান হতে পারে; একই সঙ্গে নাগরিকত্ব ও আনুগত্যের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

তৃতীয়ত, নাগরিকত্বের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না পাওয়া। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশ্নে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দেওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় যাচাইয়ের আগেই সেটি ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পঞ্চমত, রাজনৈতিক মেরুকরণ। ক্ষমতাসীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক।

তবে এসবের কোনোটিই নিজে থেকে ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রমাণ নয়।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে নাগরিকত্ব বিতর্কে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের অধিকার। কিন্তু প্রশ্নের সঙ্গে প্রমাণের সীমারেখা স্পষ্ট রাখতে হবে।

যদি কোনো নথিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া যায়, সেটি অবশ্যই অনুসন্ধানের বিষয়। কিন্তু সেই নথি তাঁর বর্তমান নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

আবার তিনি যদি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেই নথি বা কার্যকর তারিখের বিষয়ে স্পষ্টতা দেওয়াও যুক্তিযুক্ত।

অর্থাৎ অনুসন্ধানের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদঘাটন- কাউকে অভিযুক্ত করা নয়।

প্রমাণ ছাড়া একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা যেমন অন্যায়, তেমনি প্রকৃত কোনো আইনগত অসঙ্গতি থাকলে রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে সেটিকে আড়াল করাও অনৈতিক।

হুমায়ুন কবিরের জন্য বিতর্কই হতে পারে স্বচ্ছতার সুযোগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবির চাইলে এই বিতর্ককে নিজের জন্য একটি স্বচ্ছতার সুযোগে পরিণত করতে পারেন।

তিনি যদি স্পষ্টভাবে জানান- তাঁর বর্তমান নাগরিকত্বের আইনগত অবস্থান কী, অতীতে কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব ছিল কি না এবং থাকলে তা কবে ও কীভাবে ত্যাগ করা হয়েছে- তাহলে বিতর্কের বড় অংশের অবসান ঘটতে পারে।

বিশেষ করে যদি তাঁর কাছে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক declaration থাকে, তাহলে যথাযথ আইনগত ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা বজায় রেখে তার অস্তিত্ব ও কার্যকর তারিখ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জনআস্থার জন্য সহায়ক হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এমন renunciation-এর আনুষ্ঠানিক declaration-এ কার্যকর তারিখ উল্লেখ থাকে।

কারণ একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ শুধু সরকারের আস্থা নয়- জনগণের আস্থা।

রাজনৈতিক আস্থা বনাম জনআস্থা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন- এটি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ সেই আস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করবে তাঁর কাজের ওপর।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হয়, প্রবাসীদের অধিকার ও সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, নতুন শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কতটা তৈরি হয়- এসবই হবে তাঁর বাস্তব সাফল্যের মাপকাঠি।

পররাষ্ট্রনীতিতে বক্তৃতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সবচেয়ে বড় কথা।

দেশপ্রেম ও নাগরিকত্ব- দুটি আলাদা বিষয়

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। কেউ বিদেশে জন্মেছেন, বিদেশে বড় হয়েছেন, বিদেশে পড়াশোনা করেছেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন- এ কারণে তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ করা ঠিক নয়।

আবার নাগরিকত্ব নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠলে সেটিকে দেশপ্রেমের প্রশ্নে পরিণত করাও ঠিক নয়। দেশপ্রেম একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়; নাগরিকত্ব একটি আইনগত বিষয়।

হুমায়ুন কবিরের দেশপ্রেম মূল্যায়িত হবে তাঁর রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। আর তাঁর সাংবিধানিক যোগ্যতা নির্ধারিত হবে সংবিধান, আইন ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে।

এই দুই পরীক্ষাকে আলাদা রাখাই দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচিন্তার পরিচয়।

শেষ কথা

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ককে এক কথায় ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আবার প্রমাণ ছাড়া তাঁকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য বলাও সমানভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন।

প্রশ্ন থাকুক। অনুসন্ধান হোক। নথি যাচাই হোক। সরকার প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করুন।

গণতন্ত্রে প্রশ্ন কোনো অপরাধ নয়। বরং প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তরই আস্থা তৈরি করে।

হুমায়ুন কবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- প্রধানমন্ত্রীর আস্থাকে জনগণের আস্থায় পরিণত করা।

সেই আস্থা শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে অর্জিত হবে না। অর্জিত হবে স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক বিধান মেনে চলা, জবাবদিহি, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং দৃশ্যমান রাষ্ট্রীয় অর্জনের মাধ্যমে।

আর তাঁর সমালোচকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, অভিযোগ হতে হবে প্রমাণনির্ভর এবং অনুসন্ধান হতে হবে ন্যায্য।

শেষ পর্যন্ত তাই হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান একটাই- অপপ্রচার নয়, তথ্য; পাল্টা আক্রমণ নয়, স্বচ্ছতা; রাজনৈতিক স্লোগান নয়, আইন ও প্রমাণ।

কারণ ব্যক্তি হুমায়ুন কবিরের চেয়েও বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবিধান এবং জাতীয় স্বার্থ। সেই স্বার্থ রক্ষাই হওয়া উচিত সরকার, গণমাধ্যম ও বিরোধী মত- সবার অভিন্ন দায়িত্ব।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতীক হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্ক কেন?

আপডেট সময় ০৪:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজনীতিতে আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আস্থার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইন মেনে চলার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, আইনগত অবস্থান ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রশ্ন উঠবে, আলোচনা হবে, সমালোচনাও হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটিই স্বাভাবিক।

সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের স্বচ্ছতা, বিদেশি নাগরিকত্বের প্রশ্ন, সংবিধানের বিধান, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়।

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পর ২৩ আগস্ট সরকার তাঁর ও আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে। সরকারি দায়িত্ব বণ্টনের সংবাদ অনুযায়ী, হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহায়তা করবেন।

অর্থাৎ এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী পদ নয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে। ফলে তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আইনগত অবস্থান নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব

বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হুমায়ুন কবিরের কথিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব।

২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রশ্নটির সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন করেন- ‘কার এত জ্বালা?’

এখানেই বিতর্কের মূল জায়গা। একজন ব্যক্তি বাংলাদেশি- এটি এক বিষয়। তিনি অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করেছিলেন কি না- এটি আরেক বিষয়। আর যদি ধারণ করে থাকেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেটি আইনগতভাবে ত্যাগ করেছিলেন কি না- সেটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রশ্ন।

এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি একটি প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়াও বিতর্কের অবসান ঘটায় না।

হুমায়ুন কবিরের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁর সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাই- দুটিও আলাদা বিষয়। একজন ব্যক্তি দেশপ্রেমিক হতে পারেন; কিন্তু রাষ্ট্রীয় পদে তাঁর যোগ্যতা নির্ধারিত হবে সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে।

তাই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের সবচেয়ে কার্যকর উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্য নয়- প্রামাণ্য নথি।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্তত নয়-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সংসদের বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মন্ত্রিসভায় নিয়োগের সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ। ৬৬(১) অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া এবং কমপক্ষে ২৫ বছর বয়সী হওয়া প্রয়োজন। ৬৬(২)(গ)-তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে অথবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হন। একই সঙ্গে ৬৬(২এ)-তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি বিদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার পর দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।

অতএব, শুধু কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে হুমায়ুন কবিরকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা দায়িত্বশীল হবে না। আবার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রয়োজন হলো- তথ্য যাচাই, নথি যাচাই এবং আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করা।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে Declaration of Renunciation-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদন গ্রহণ ও নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘declaration of renunciation’ দেওয়া হয়, যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ উল্লেখ থাকে। ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় এটিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয় তখনই, যখন declaration নিবন্ধিত হয়। ফলে ‘ত্যাগের আবেদন করেছেন’ এবং ‘আইনগতভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয়েছে’- এ দুটি বিষয়ও এক নয়।

এই কারণে হুমায়ুন কবির যদি অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করে থাকেন এবং পরে তা ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে বিতর্কের সবচেয়ে পরিষ্কার সমাধান হতে পারে তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট আইনগত নথি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।

এতে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা নয়। বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির স্বচ্ছতা জনআস্থা বাড়াতে পারে।

Companies House-এর তথ্য কি চূড়ান্ত প্রমাণ?

হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাজ্যের Companies House-এর তথ্যের কথাও এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে কোম্পানি-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানে সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি মনে রাখা প্রয়োজন। কোনো কোম্পানি রেজিস্ট্রির নথিতে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য থাকা এবং একজন ব্যক্তির বর্তমান আইনগত নাগরিকত্বের চূড়ান্ত অবস্থান প্রমাণিত হওয়া- একই বিষয় নয়।

Companies House-এর তথ্য অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। কিন্তু নাগরিকত্বের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্বের নথি, নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত দলিল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনগত প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও ভাষার সূক্ষ্মতা গুরুত্বপূর্ণ।

‘তিনি ব্রিটিশ নাগরিক’- এমন নিশ্চিত দাবি এবং ‘নথিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া গেছে’- এই দুই বাক্যের আইনগত ও সাংবাদিকতাগত তাৎপর্য এক নয়। এই পার্থক্য বজায় রাখাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয়।

দ্রুত উত্থানও কি প্রশ্নের কারণ?

হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক উত্থানও জনমনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এরপর দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টনে তাঁকে ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১’ করা হয়েছে।

এই দ্রুত উত্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে- তাঁর বিশেষ যোগ্যতা কী? আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কতটা? সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা কী? কেন তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো?

এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। কারণ টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা সাধারণত তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষ জ্ঞান। সুতরাং হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরলে বিতর্কের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরীক্ষা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের সামনে এখন বাস্তব কাজের বড় ক্ষেত্রও রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতির মতো বিষয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ যোগাযোগ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তাঁর বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে।

একইভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ নিয়েও তিনি বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন কিছু মাত্রা সামনে আসতে পারে।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্য। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সহজ কাজ নয়।

তাই হুমায়ুন কবিরের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে- বক্তৃতা নয়, বাস্তব কূটনৈতিক ফলাফল।

তাহলে বিতর্কের কারণ কী?

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট।

প্রথমত, দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দ্রুত আসা যে কোনো ব্যক্তিকে ঘিরেই স্বাভাবিকভাবে জনকৌতূহল তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, বিদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। বিদেশে বসবাস, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে মূল্যবান হতে পারে; একই সঙ্গে নাগরিকত্ব ও আনুগত্যের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

তৃতীয়ত, নাগরিকত্বের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না পাওয়া। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশ্নে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দেওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় যাচাইয়ের আগেই সেটি ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পঞ্চমত, রাজনৈতিক মেরুকরণ। ক্ষমতাসীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক।

তবে এসবের কোনোটিই নিজে থেকে ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রমাণ নয়।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে নাগরিকত্ব বিতর্কে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের অধিকার। কিন্তু প্রশ্নের সঙ্গে প্রমাণের সীমারেখা স্পষ্ট রাখতে হবে।

যদি কোনো নথিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া যায়, সেটি অবশ্যই অনুসন্ধানের বিষয়। কিন্তু সেই নথি তাঁর বর্তমান নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

আবার তিনি যদি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেই নথি বা কার্যকর তারিখের বিষয়ে স্পষ্টতা দেওয়াও যুক্তিযুক্ত।

অর্থাৎ অনুসন্ধানের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদঘাটন- কাউকে অভিযুক্ত করা নয়।

প্রমাণ ছাড়া একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা যেমন অন্যায়, তেমনি প্রকৃত কোনো আইনগত অসঙ্গতি থাকলে রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে সেটিকে আড়াল করাও অনৈতিক।

হুমায়ুন কবিরের জন্য বিতর্কই হতে পারে স্বচ্ছতার সুযোগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবির চাইলে এই বিতর্ককে নিজের জন্য একটি স্বচ্ছতার সুযোগে পরিণত করতে পারেন।

তিনি যদি স্পষ্টভাবে জানান- তাঁর বর্তমান নাগরিকত্বের আইনগত অবস্থান কী, অতীতে কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব ছিল কি না এবং থাকলে তা কবে ও কীভাবে ত্যাগ করা হয়েছে- তাহলে বিতর্কের বড় অংশের অবসান ঘটতে পারে।

বিশেষ করে যদি তাঁর কাছে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক declaration থাকে, তাহলে যথাযথ আইনগত ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা বজায় রেখে তার অস্তিত্ব ও কার্যকর তারিখ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জনআস্থার জন্য সহায়ক হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এমন renunciation-এর আনুষ্ঠানিক declaration-এ কার্যকর তারিখ উল্লেখ থাকে।

কারণ একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ শুধু সরকারের আস্থা নয়- জনগণের আস্থা।

রাজনৈতিক আস্থা বনাম জনআস্থা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন- এটি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ সেই আস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করবে তাঁর কাজের ওপর।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হয়, প্রবাসীদের অধিকার ও সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, নতুন শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কতটা তৈরি হয়- এসবই হবে তাঁর বাস্তব সাফল্যের মাপকাঠি।

পররাষ্ট্রনীতিতে বক্তৃতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সবচেয়ে বড় কথা।

দেশপ্রেম ও নাগরিকত্ব- দুটি আলাদা বিষয়

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। কেউ বিদেশে জন্মেছেন, বিদেশে বড় হয়েছেন, বিদেশে পড়াশোনা করেছেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন- এ কারণে তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ করা ঠিক নয়।

আবার নাগরিকত্ব নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠলে সেটিকে দেশপ্রেমের প্রশ্নে পরিণত করাও ঠিক নয়। দেশপ্রেম একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়; নাগরিকত্ব একটি আইনগত বিষয়।

হুমায়ুন কবিরের দেশপ্রেম মূল্যায়িত হবে তাঁর রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। আর তাঁর সাংবিধানিক যোগ্যতা নির্ধারিত হবে সংবিধান, আইন ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে।

এই দুই পরীক্ষাকে আলাদা রাখাই দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচিন্তার পরিচয়।

শেষ কথা

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ককে এক কথায় ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আবার প্রমাণ ছাড়া তাঁকে সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য বলাও সমানভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন।

প্রশ্ন থাকুক। অনুসন্ধান হোক। নথি যাচাই হোক। সরকার প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করুন।

গণতন্ত্রে প্রশ্ন কোনো অপরাধ নয়। বরং প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তরই আস্থা তৈরি করে।

হুমায়ুন কবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- প্রধানমন্ত্রীর আস্থাকে জনগণের আস্থায় পরিণত করা।

সেই আস্থা শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে অর্জিত হবে না। অর্জিত হবে স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক বিধান মেনে চলা, জবাবদিহি, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং দৃশ্যমান রাষ্ট্রীয় অর্জনের মাধ্যমে।

আর তাঁর সমালোচকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, অভিযোগ হতে হবে প্রমাণনির্ভর এবং অনুসন্ধান হতে হবে ন্যায্য।

শেষ পর্যন্ত তাই হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান একটাই- অপপ্রচার নয়, তথ্য; পাল্টা আক্রমণ নয়, স্বচ্ছতা; রাজনৈতিক স্লোগান নয়, আইন ও প্রমাণ।

কারণ ব্যক্তি হুমায়ুন কবিরের চেয়েও বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবিধান এবং জাতীয় স্বার্থ। সেই স্বার্থ রক্ষাই হওয়া উচিত সরকার, গণমাধ্যম ও বিরোধী মত- সবার অভিন্ন দায়িত্ব।

ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক


প্রিন্ট