ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি করেছে পুলিশ : দুপুরে সংবাদ সম্মেলন Logo হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়া উচিত : জামায়াত আমির Logo ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের Logo একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর Logo জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন Logo সংগীতশিল্পী সালমার বাবা ফজলুল হক আর নেই Logo জানুয়ারি থেকে জুলাই : সাত মাসে ৬৪১ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার Logo আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারী সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন Logo পবিত্র শহর মক্কায় ড্রোন ছুড়ল হুথিরা, আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি আরব Logo প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে মিলল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার মজুত

মার্কা’ ছাড়া ফাইল জমা নয়! নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সালাহ উদ্দিন সুমন:
  • আপডেট সময় ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

সব কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ঠিক থাকার পরও বিশেষ ‘মার্কা’ বা কথিত ‘গোপন ইমেইল কোড’ না থাকায় নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। অফিসের বাইরে থাকা কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আবেদন জমা ও দ্রুত সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে দেওয়া হয়। অথচ অফিসের প্রধান সড়কের আশপাশ ও জেলা শহর মাইজদীর নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করালে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফাইল দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব দোকানে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এসব দোকানের মাধ্যমে আবেদন করার সময় একটি বিশেষ ‘মার্কা’ বা কথিত ‘গোপন ইমেইল কোড’ ব্যবহার করা হয়। ওই কোডের মাধ্যমে আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হলেও সাধারণভাবে সরাসরি আবেদন জমা দিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

‘দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না’ সেবা নিতে আসা রাশেদ রানা অভিযোগ করে বলেন, “দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না এ অফিসে। আবেদন ফর্ম পূরণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তুলতে গেলে অফিসের কর্মচারীরা খারাপ ব্যবহার করেন। মাইজদী শহরের অধিকাংশ কম্পিউটার দোকানে পাসপোর্টের আবেদন করার নামে চুক্তি চলে। তাদের সঙ্গে চুক্তি করলেই হয়রানি ছাড়া পাসপোর্ট করা যায়।”

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, জেলা শহর মাইজদীতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি কম্পিউটার দোকান পাসপোর্টের আবেদন ও পরামর্শ দেওয়ার আড়ালে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এসব দোকানে আবেদন করার জন্য নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবেদনপত্রে ভুলত্রুটি থাকলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা অফিসের মাধ্যমে সমাধান করে দেওয়ার দাবি করা হয় বলে অভিযোগকারী।

প্রতিদিন শত শত আবেদন, লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে প্রায়  ৩০০টি  এভাবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি আবেদনে গড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হলে দৈনিক প্রায়৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব দাঁড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে মধ্যস্বত্বভোগী ও কম্পিউটার দোকানকেন্দ্রিক এ কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাসপোর্টের জন্য আসা সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘নতুন সিস্টেমে কাজ করতে হয়’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নোয়াখালীর এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে পাসপোর্টের কাজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, বলেন, “নতুন সিস্টেমে কাজ করতে হয়। বাইরে গেট থেকে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ লোকদের কাগজপত্র দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দিই। অফিসে কর্মকর্তাদের ফোন করে নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিই।”

কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের ‘সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাইরের দালালদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, এই চক্রের বাইরে থেকে স্বাভাবিকভাবে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। প্রতিটি পাসপোর্টের বিপরীতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্য জানতে সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কা’ ছাড়া ফাইল জমা নয়! নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ঠিক থাকার পরও বিশেষ ‘মার্কা’ বা কথিত ‘গোপন ইমেইল কোড’ না থাকায় নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। অফিসের বাইরে থাকা কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আবেদন জমা ও দ্রুত সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে দেওয়া হয়। অথচ অফিসের প্রধান সড়কের আশপাশ ও জেলা শহর মাইজদীর নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করালে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফাইল দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব দোকানে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এসব দোকানের মাধ্যমে আবেদন করার সময় একটি বিশেষ ‘মার্কা’ বা কথিত ‘গোপন ইমেইল কোড’ ব্যবহার করা হয়। ওই কোডের মাধ্যমে আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হলেও সাধারণভাবে সরাসরি আবেদন জমা দিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

‘দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না’ সেবা নিতে আসা রাশেদ রানা অভিযোগ করে বলেন, “দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না এ অফিসে। আবেদন ফর্ম পূরণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তুলতে গেলে অফিসের কর্মচারীরা খারাপ ব্যবহার করেন। মাইজদী শহরের অধিকাংশ কম্পিউটার দোকানে পাসপোর্টের আবেদন করার নামে চুক্তি চলে। তাদের সঙ্গে চুক্তি করলেই হয়রানি ছাড়া পাসপোর্ট করা যায়।”

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, জেলা শহর মাইজদীতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি কম্পিউটার দোকান পাসপোর্টের আবেদন ও পরামর্শ দেওয়ার আড়ালে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এসব দোকানে আবেদন করার জন্য নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবেদনপত্রে ভুলত্রুটি থাকলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা অফিসের মাধ্যমে সমাধান করে দেওয়ার দাবি করা হয় বলে অভিযোগকারী।

প্রতিদিন শত শত আবেদন, লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে প্রায়  ৩০০টি  এভাবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি আবেদনে গড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হলে দৈনিক প্রায়৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব দাঁড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে মধ্যস্বত্বভোগী ও কম্পিউটার দোকানকেন্দ্রিক এ কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাসপোর্টের জন্য আসা সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘নতুন সিস্টেমে কাজ করতে হয়’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নোয়াখালীর এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে পাসপোর্টের কাজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, বলেন, “নতুন সিস্টেমে কাজ করতে হয়। বাইরে গেট থেকে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ লোকদের কাগজপত্র দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দিই। অফিসে কর্মকর্তাদের ফোন করে নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিই।”

কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের ‘সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাইরের দালালদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, এই চক্রের বাইরে থেকে স্বাভাবিকভাবে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। প্রতিটি পাসপোর্টের বিপরীতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্য জানতে সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট