ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন মসজিদে ভোগান্তিতে মুসল্লি ও সেবাগ্রহীতারা
মসজিদে শৌচাগার নেই, প্রস্রাবখানাতেও তালা- দায় কার?
- আপডেট সময় ০৩:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩০৪২ বার পড়া হয়েছে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন মসজিদে মুসল্লিদের জন্য ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন নামাজ আদায় করতে আসা মানুষ। মসজিদ থেকে অল্প দূরত্বে একটি প্রস্রাবখানা থাকলেও সেটিও দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রয়োজনের সময় শৌচাগার সুবিধা না পেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন মুসল্লি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিভিন্ন কাজে আসা সেবাগ্রহীতারা।
নিয়মিত নামাজ, নেই প্রয়োজনীয় শৌচাগার
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলিল নিবন্ধনসহ নানা কাজে বহু মানুষ আসেন। নামাজের সময় তাদের অনেকে অফিসসংলগ্ন এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
তবে মসজিদে প্রয়োজনীয় শৌচাগার সুবিধা না থাকায় বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় তারা কোথায় যাবেন- এ নিয়ে অনেককে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অদূরে প্রস্রাবখানা, তাতেও ঝুলছে তালা
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০ গজ উত্তরে একটি প্রস্রাবখানা রয়েছে। কিন্তু সেটি বর্তমানে তালাবদ্ধ। কার নির্দেশে বা কী কারণে প্রস্রাবখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয়রা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
কয়েকজন দলিল লেখকও প্রস্রাবখানাটি তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আগে এটি উন্মুক্ত ছিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মুসল্লিরা ব্যবহার করতেন। বর্তমানে কী কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে, তা তারা জানেন না।
রেজিস্ট্রি কাজে এসে বিপাকে মুসল্লি
সম্প্রতি রেজিস্ট্রির কাজে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসা এক মুসল্লি বলেন, “গত এক মাসে চার দিন রেজিস্ট্রির কাজে এ অফিসে এসেছি। কাজের মধ্যে নামাজের সময় হলে অফিসসংলগ্ন মসজিদে যাই। কিন্তু প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার মতো কোনো শৌচাগার পাইনি। বিষয়টি খুবই বিব্রতকর।”
তার মতো বিভিন্ন কাজে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য বিষয়টি আরও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রশ্ন উঠেছে ব্যবস্থাপনা নিয়ে
মুসল্লিদের অভিযোগ, নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত একটি মসজিদে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও অজুর সুবিধা না থাকা দুঃখজনক। তার ওপর মসজিদের অদূরে থাকা একটি প্রস্রাবখানা যদি ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তাহলে মুসল্লিদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী- এ প্রশ্নও উঠেছে।
বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের পাশে মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় এখানে শুধু স্থানীয় মুসল্লিরাই নন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সেবাগ্রহীতারাও নামাজ আদায় করেন।
তালা কেন, জানে না স্থানীয়রা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে থাকা প্রস্রাবখানাটি কেন তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে?
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, আগে এটি ব্যবহার করা যেত। কিন্তু বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকায় প্রয়োজনের সময় মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তবে তালাবদ্ধ রাখার কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি তারা।
ফলে প্রস্রাবখানাটি কার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে এবং কেন সেটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ- তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
দ্রুত সমাধানের দাবি
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, তালাবদ্ধ প্রস্রাবখানাটি দ্রুত উন্মুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য করা হোক। পাশাপাশি মসজিদে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও অজুর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের আরও দাবি, মসজিদ ও প্রস্রাবখানার ব্যবস্থাপনা কার দায়িত্বে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে কেন এই মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং দলিল লেখক সমিতির কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শৌচাগার ও অজুর সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং তালাবদ্ধ প্রস্রাবখানাটি ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়া হবে।
মুসল্লিদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা শুধু একটি মসজিদের ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; জনসাধারণের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এমন একটি সরকারি দপ্তরের পাশের স্থাপনা হিসেবে বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রিন্ট





















