ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo র‍্যাব নাম বিলুপ্ত করে নতুন নামে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : খসড়া আইন প্রকাশ Logo ২০ আগস্ট হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন  Logo কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে Logo জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য : লংমার্চের ঘোষণা Logo পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু! : কিছুটা আঁচ লাগতে পারে পৃথিবীর মহাকাশবিজ্ঞান চর্চায় Logo ক্রিস গেলকে ছাপিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন কাইরন পোলার্ড : এ বার তাঁকে ছাপিয়ে গেলেন জস বাটলার Logo হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? Logo ম্যাচ চলাকালীন মাঠে বজ্রাঘাতে এক ফুটবলারের মৃত্যু : আহত ১২ জন Logo ৫ আগস্ট জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন : নাহিদ ইসলাম Logo নওগাঁর বদলগাছীতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় জামায়াতের আমির শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে?

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৯:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৮৯৪ বার পড়া হয়েছে

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবে হৃদ্‌রোগী এখন ঘরে ঘরে

নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবে হৃদ্‌রোগী এখন ঘরে ঘরে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল— এ সব যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী। তবে এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ তো আছেই। কিন্তু এক বার ওষুধ খাওয়া শুরু করলে তা বন্ধ করা মুশকিল। তাই প্রথম থেকেই ওষুধনির্ভর জীবন বেছে না নিয়ে, ডায়েটে কিছু পরিবর্তন আনলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এর পাশাপাশি চাই সচেতনতাও। নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।

এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হার্টের রোগের ঝুঁকি আগেভাগে ধরতে গুরুত্ব বাড়ছে এপিওবি বা অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষার।

সাধারণ লিপিড প্রোফাইল টেস্টে রক্তে মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা যায়। কিন্তু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষা করে জানা যায়, রক্তে কতগুলি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল-বহনকারী কণা রয়েছে। এই কণাগুলিই ধীরে ধীরে রক্তনালির গায়ে জমে ব্লক তৈরি করে। ফলে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি-এর মাত্রা বেশি থাকতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তুলনামূলক ভাবে খরচ বেশি না হলেও এই পরীক্ষা ঝুঁকি নির্ধারণে অনেক বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি রিপোর্টই শেষ কথা নয়। হার্টের সামগ্রিক ঝুঁকি বুঝতে রোগীর বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, জীবনযাত্রা, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল সব কিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে, ডায়াবিটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে, অথবা হৃদ্‌যন্ত্রজনিত কোনও সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি টেস্ট করানো যেতে পারে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, হার্ট অ্যাটাক আচমকা হলেও তার ঝুঁকি তৈরি হয় অনেক আগে থেকেই। সময়মতো সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

 


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে?

আপডেট সময় ০৯:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবে হৃদ্‌রোগী এখন ঘরে ঘরে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল— এ সব যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী। তবে এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ তো আছেই। কিন্তু এক বার ওষুধ খাওয়া শুরু করলে তা বন্ধ করা মুশকিল। তাই প্রথম থেকেই ওষুধনির্ভর জীবন বেছে না নিয়ে, ডায়েটে কিছু পরিবর্তন আনলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এর পাশাপাশি চাই সচেতনতাও। নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।

এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হার্টের রোগের ঝুঁকি আগেভাগে ধরতে গুরুত্ব বাড়ছে এপিওবি বা অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষার।

সাধারণ লিপিড প্রোফাইল টেস্টে রক্তে মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা যায়। কিন্তু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষা করে জানা যায়, রক্তে কতগুলি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল-বহনকারী কণা রয়েছে। এই কণাগুলিই ধীরে ধীরে রক্তনালির গায়ে জমে ব্লক তৈরি করে। ফলে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি-এর মাত্রা বেশি থাকতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তুলনামূলক ভাবে খরচ বেশি না হলেও এই পরীক্ষা ঝুঁকি নির্ধারণে অনেক বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি রিপোর্টই শেষ কথা নয়। হার্টের সামগ্রিক ঝুঁকি বুঝতে রোগীর বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, জীবনযাত্রা, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল সব কিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে, ডায়াবিটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে, অথবা হৃদ্‌যন্ত্রজনিত কোনও সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি টেস্ট করানো যেতে পারে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, হার্ট অ্যাটাক আচমকা হলেও তার ঝুঁকি তৈরি হয় অনেক আগে থেকেই। সময়মতো সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

 


প্রিন্ট