ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo খাদ্যগুদামে নয়ছয়ের দিন শেষ, সিন্ডিকেটের মদদদাতারাও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী Logo নেপালে ভয়াবহ বন্যা: ৩৬০-এর বেশি মৃত্যু, নিখোঁজ ১,৪০০ Logo মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ Logo মালয়েশিয়ায় অভিযানে ২৫২ জন আটক, ১৬৪ জনই বাংলাদেশি Logo রাষ্ট্রপতির শপথের পর মন্ত্রিসভায় শপথ নিলেন মঈন খান, পার্থ, সাচিং ও শামীম Logo মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, আজই শপথের আভাস Logo রুহুল কবির রিজভী হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব Logo ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
৪১ টন ধান বেশি, চাল-গম কম- গুদাম সিলগালা; বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন

ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গম উধাও, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত নিয়ে বড় ধরনের হিসাবের গরমিল ধরা পড়েছে। গুদামের নথিপত্র ও সরেজমিন মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল এবং ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে।

খাদ্যশস্যের এই অসংগতির ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে এই হিসাবের গরমিল কীভাবে হলো, চাল ও গমের ঘাটতির প্রকৃত কারণ কী এবং ৬ হাজার ৫০০ বস্তার হিসাব কোথায়- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের অপেক্ষায়।

যেভাবে ধরা পড়ে গরমিল

খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত একটি কমিটি ২৫ আগস্ট ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে। কমিটির সদস্যরা গুদামের দাপ্তরিক নথি, মজুত রেজিস্টার ও অন্যান্য হিসাবপত্রের সঙ্গে প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখেন।

এ সময় নথিভুক্ত হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে থাকা খাদ্যশস্যের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায়।

পরিদর্শনে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম এবং ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি বস্তার হিসাবেও ৬ হাজার ৫০০টির ঘাটতি শনাক্ত হয়।

কমিটি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালককে জানায়।

কেন সাময়িক বরখাস্ত?

খাদ্য অধিদপ্তরের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। এর ভিত্তিতেই তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এটি চূড়ান্তভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আত্মসাতের প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।

গুদাম সিলগালা, চলছে বিশেষ নিরীক্ষা

ঘিওর খাদ্যগুদামটি বর্তমানে সাময়িকভাবে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব ও প্রকৃত মজুতের মধ্যে পাওয়া অসংগতি আরও যাচাই করতে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খাদ্যগুদামগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে।

দাপ্তরিক হিসাব, খাতাপত্র ও নথির পাশাপাশি বাস্তবে গুদামে থাকা খাদ্যশস্যের পরিমাণও যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের কেন্দ্রে যেসব প্রশ্ন

ঘিওর খাদ্যগুদামে পাওয়া এই হিসাবের গরমিলের ঘটনায় এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে-

১. ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি কীভাবে তৈরি হলো?

২. নথিতে চাল-গমের যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব মজুতের এত বড় পার্থক্য কেন?

৩. ৪১ টন ধান অতিরিক্ত থাকার কারণ কী?

৪. ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতির ব্যাখ্যা কী?

৫. মজুত ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা হয়েছিল কি না?

৬. গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও তদারকির ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল কি না?

৭. খাদ্যশস্যের ঘাটতির সঙ্গে কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান নিরীক্ষা ও বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের ওপর।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা’

মানিকগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য বিভাগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেছে। দাপ্তরিক হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

নিরীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সামনে আরও কী জানা দরকার

সরকারি খাদ্যগুদামের মজুত খাদ্যশস্য সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শুধু দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাই শেষ কথা নয়- চাল-গমের ঘাটতি, অতিরিক্ত ধান এবং বস্তার হিসাবের পার্থক্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মজুত গ্রহণ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের নথি যাচাই করলে গরমিলের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

চলমান তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা কিংবা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

৪১ টন ধান বেশি, চাল-গম কম- গুদাম সিলগালা; বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন

ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গম উধাও, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৫:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত নিয়ে বড় ধরনের হিসাবের গরমিল ধরা পড়েছে। গুদামের নথিপত্র ও সরেজমিন মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল এবং ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে।

খাদ্যশস্যের এই অসংগতির ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে এই হিসাবের গরমিল কীভাবে হলো, চাল ও গমের ঘাটতির প্রকৃত কারণ কী এবং ৬ হাজার ৫০০ বস্তার হিসাব কোথায়- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের অপেক্ষায়।

যেভাবে ধরা পড়ে গরমিল

খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত একটি কমিটি ২৫ আগস্ট ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে। কমিটির সদস্যরা গুদামের দাপ্তরিক নথি, মজুত রেজিস্টার ও অন্যান্য হিসাবপত্রের সঙ্গে প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখেন।

এ সময় নথিভুক্ত হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে থাকা খাদ্যশস্যের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায়।

পরিদর্শনে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম এবং ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি বস্তার হিসাবেও ৬ হাজার ৫০০টির ঘাটতি শনাক্ত হয়।

কমিটি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালককে জানায়।

কেন সাময়িক বরখাস্ত?

খাদ্য অধিদপ্তরের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। এর ভিত্তিতেই তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এটি চূড়ান্তভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আত্মসাতের প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।

গুদাম সিলগালা, চলছে বিশেষ নিরীক্ষা

ঘিওর খাদ্যগুদামটি বর্তমানে সাময়িকভাবে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব ও প্রকৃত মজুতের মধ্যে পাওয়া অসংগতি আরও যাচাই করতে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খাদ্যগুদামগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে।

দাপ্তরিক হিসাব, খাতাপত্র ও নথির পাশাপাশি বাস্তবে গুদামে থাকা খাদ্যশস্যের পরিমাণও যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের কেন্দ্রে যেসব প্রশ্ন

ঘিওর খাদ্যগুদামে পাওয়া এই হিসাবের গরমিলের ঘটনায় এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে-

১. ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি কীভাবে তৈরি হলো?

২. নথিতে চাল-গমের যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব মজুতের এত বড় পার্থক্য কেন?

৩. ৪১ টন ধান অতিরিক্ত থাকার কারণ কী?

৪. ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতির ব্যাখ্যা কী?

৫. মজুত ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা হয়েছিল কি না?

৬. গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও তদারকির ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল কি না?

৭. খাদ্যশস্যের ঘাটতির সঙ্গে কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান নিরীক্ষা ও বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের ওপর।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা’

মানিকগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য বিভাগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেছে। দাপ্তরিক হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

নিরীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সামনে আরও কী জানা দরকার

সরকারি খাদ্যগুদামের মজুত খাদ্যশস্য সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শুধু দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাই শেষ কথা নয়- চাল-গমের ঘাটতি, অতিরিক্ত ধান এবং বস্তার হিসাবের পার্থক্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মজুত গ্রহণ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের নথি যাচাই করলে গরমিলের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

চলমান তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা কিংবা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।


প্রিন্ট