হলে মেয়েদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে লন্ডনে পাঠাতেন ইবি শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় ০১:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৩২ বার পড়া হয়েছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ হলে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া তুলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ স্বীকারের পর ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন।
অভিযুক্ত তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্তের দাবি
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই-৩৬ হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই ঐশী আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন।
সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঐশীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে পাঠানো ছবিগুলোর কিছু অংশ তিনি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকটি স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে জুলাই-৩৬ হলের ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে এসব ছবি পাঠিয়েছি’
অভিযোগের বিষয়ে তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়ে ওই ব্যক্তির কাছে এসব ছবি পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সে আমাকে একের পর এক ভিডিও কল দিতো। আমি কোন পরিস্থিতিতে আছি, সেটা বোঝাতে রুমমেটদের ছবি পাঠাতাম। এ ছাড়া তারাও (রুমমেট) ওই ছেলেকে চিনতো। এমনকি সে দেশে এলে তারা তার সঙ্গে দেখা করে ট্রিটও নিয়েছে।’
ঐশীর দাবি, এক সপ্তাহ আগে ওই ব্যক্তি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তবে তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই ব্যক্তি তার বিভিন্ন সময়ে পাঠানো ছবিগুলো ভুক্তভোগীদের ইনবক্সে পাঠানো শুরু করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব বাজেভাবে ফেঁসে গেছি। এখন আমার সরি বলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’
‘নিষেধ করার পরও ছবি পাঠাত’
অন্যদিকে, ঐশীর প্রেমিক ও লন্ডনপ্রবাসী আবিদ দাবি করেন, তাকে নিষেধ করার পরও ঐশী বিভিন্ন সময় এসব ছবি পাঠাতেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও ঐশী গুরুত্ব না দিয়ে হাসাহাসি করতেন বলে দাবি করেন তিনি।
আবিদ বলেন, ‘কোনও সুস্থ মানসিকতার মানুষ এমন আচরণ করতে পারে না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ঐশীর জন্য তিনি অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। শুধু তার কথা ভেবেই প্রায় দুই মাস আগে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও গিয়েছিলেন।
আবিদ বলেন, ‘সে আমার জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জুলাই-৩৬ হল প্রশাসন।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম। দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানকে করা হয়েছে সদস্যসচিব।
তদন্ত কমিটি অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রিন্ট



















