দেশের ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা চেয়ে আইজিপিকে চিঠি
জ্বালানি সংকটে দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা
- আপডেট সময় ০৮:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৩২ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন (বাপবিএ)।
এ পরিস্থিতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি বুধবার আইজিপির কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সংগঠনটির দাবি, এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
৮০ শতাংশ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতায়
চিঠিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর ওপর বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বাপবিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুতের আওতায়।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম
বাপবিএ জানায়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে তারা গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছে।
ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। কোথাও কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করছেন বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো দায়ী নয়। তারা জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ করে থাকে। তাই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থাপনাগুলো হামলার শিকার না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্ট






















