ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় ১২:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫৩১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটার তৈরি ও ব্যবহার করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, শাওন মজুমদার সুমন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি কথিত ডিও পত্র তৈরি করেছেন। ওই পত্রে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ওই কথিত ডিও পত্রের মাধ্যমে শাওন মজুমদার সুমনের বরগুনা সদর উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পত্রটি উপস্থাপন বা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
যাচাইয়ে ‘জাল’ বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান
মামলার বাদীর অভিযোগ, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কথিত ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি।
এ ছাড়া ওই চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে পত্রটি প্রাথমিকভাবে জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্নের অভিযোগ
এজাহারে বলা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল পত্র তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে তার সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জালিয়াতি চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ
বাদীর দাবি, ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এজাহারে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইল পর্যালোচনা এবং কথিত জাল পত্রটি কোথা থেকে তৈরি ও প্রিন্ট করা হয়েছে- তা অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
যে ধারায় মামলা
এজাহারে শাওন মজুমদার সুমনসহ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১২০-বি ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার সঙ্গে কথিত জাল ডিও পত্র, প্রকৃত ডিও প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আসামিরা দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
প্রিন্ট



















