সংসদ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- আপডেট সময় ০৩:০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫২৬ বার পড়া হয়েছে
সংসদে আলোচনা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি কিংবা ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই নিয়ম ও প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে তার বিপরীত আচরণ করলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দলটি গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া কিংবা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাজনীতিতে সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ভিন্নমতের প্রতি সম্মান। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়তে থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই; কিন্তু সেই মতপার্থক্যের সমাধান হতে হবে আলোচনা, সংসদীয় চর্চা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ- সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রিন্ট























