তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার, প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ এএসআই পলাশের
- আপডেট সময় ০৮:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫১২ বার পড়া হয়েছে
ফ্ল্যাটের মালিকানা ও অংশীদারিত্বসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার এএসআই পলাশ চন্দ্র।
এএসআই পলাশ চন্দ্র প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, প্রতিবেদনে তার বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের প্রকৃত প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তও পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে মো. মতিউর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই পলাশ চন্দ্র এজাহারভুক্ত আসামিদের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করেননি।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এএসআই পলাশ চন্দ্র। তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর মামলার নথিপত্র, কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এএসআই পলাশ চন্দ্র বলেন, কোনো আসামিকে সুবিধা দেওয়া, কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রতিবেদন দাখিল করা। কোনো পক্ষের বক্তব্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”
সম্পত্তি বিরোধের বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ
প্রতিবাদে এএসআই পলাশ চন্দ্র আরও বলেন, ফ্ল্যাট ও ভবনের মালিকানা, অংশীদারিত্ব এবং ওয়ারিশসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তার দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ফলে কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো ঘটনা তুলে ধরলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
প্রকাশিত সংবাদে ‘ভুয়া জিডি’ ও ‘চাপ প্রয়োগ’-এর মতো যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যাপ্তভাবে প্রকাশ না করায় সংবাদটি একপাক্ষিক হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এএসআই পলাশ চন্দ্র।
সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার অভিযোগ
এএসআই পলাশ চন্দ্র দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং তার সুনাম ও মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানসহ মিরপুর জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই পলাশ চন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই বলে তারা জানিয়েছেন- এমন বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা রেকর্ড থাকা প্রয়োজন।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান
এএসআই পলাশ চন্দ্র প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পুনরায় যাচাই করে তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং ঘটনার উভয় দিক পর্যালোচনা করে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ও এএসআই পলাশ চন্দ্রের প্রতিবাদ- উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রিন্ট





















