ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায় আজ Logo আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা সভা বুধবার Logo যাত্রাবাড়ীর হত্যাসহ দুটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল Logo ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন Logo এক বছর পরও সুরে অমর ফরিদা পারভীন : আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী Logo ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪১ যাত্রীসহ ইন্দোনেশীয় জাহাজ নিখোঁজ Logo সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা Logo দেশের বাজারে ফের কমল সোনার দাম, প্রতি ভরি কত হলো

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায় আজ

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫০৪ বার পড়া হয়েছে

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায় আজ

স্টাফ রিপোর্টার : অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে পলাতক এই নেতাদের ভাগ্য।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। ৭ আসামিই বর্তমানে পলাতক।

প্রত্যেকের সর্বোচ্চ সাজার আশা রাষ্ট্রপক্ষের। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ, তারা হত্যার নির্দেশদাতা নন।

প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেফতারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণপর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের ৬টি রায় ঘোষণা গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল। তবে, এ মামলার রায় সম্প্রচার করা হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায় আজ

আপডেট সময় ০৯:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওবায়দুল কাদের, পরশ, সাদ্দামসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে পলাতক এই নেতাদের ভাগ্য।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। ৭ আসামিই বর্তমানে পলাতক।

প্রত্যেকের সর্বোচ্চ সাজার আশা রাষ্ট্রপক্ষের। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ, তারা হত্যার নির্দেশদাতা নন।

প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেফতারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণপর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের ৬টি রায় ঘোষণা গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল। তবে, এ মামলার রায় সম্প্রচার করা হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।


প্রিন্ট