আজ ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার দুই দশক
- আপডেট সময় ১০:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫২৭ বার পড়া হয়েছে
১৭ আগস্ট ২০০৫। দেশের ৬৩ জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ জায়গায় একযোগে চালানো হয় বোমা হামলা। লক্ষ্য ছিল আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
তখনকার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ছিলেন শাহজাহান সাজু। সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম কোর্টটা তো পাহাড়ের উপরে। আমরা নিচে থেকে পাহাড়ের উপরে উঠতেছি। তো ওঠার পথে মাঝামাঝি জায়গায় বোমা ফাটার যে আলামত, সেটা আমরা দেখলাম। সেই বোমার স্প্লিন্টার বিভিন্ন আশপাশের বিল্ডিংয়ে লেগেছিল।’
ওই হামলায় নিহত দুই, আহত হন দুশোর বেশি মানুষ। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে—এতে জড়িত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওই সিরিজ বোমা হামলায় ২৪২ জনকে আসামি করে সারা দেশে মামলা হয় ১৫৯টি। অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১২১ জনে। এর মধ্যে শতাধিক মামলার বিচার শেষ হয়েছে বিচারিক আদালতে।
রায়ে সাড়ে ৩শ জনের বেশি আসামির হয় নানা মেয়াদে সাজা। জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ ২৭ জনকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। এর মধ্যে আটজনের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন।
তবে মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অনেক ক্ষেত্রেই আসামিদের দায় স্বীকার করে দেয়া জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে বিচারিক আদালত রায় দিয়েছে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘আপনি একজনকে রিমান্ডে নিয়ে টর্চার করলেন এবং পরে তাকে কোর্টে এনে হাজির করলেন। সে পনেরো দিনের মাথায় ওই কনফেশনটা রিট্র্যাক্ট করল। আমাদের সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্ট আছে যে, রিট্র্যাক্টেড কনফেশনের ওপর ভিত্তি করে সাজা দিতে হলে এটার করোবোরেটিং আরও কিছু সাপোর্ট, আরও কিছু এভিডেন্স লাগবে, যেগুলো ক্রেডিবল এভিডেন্স এবং যেগুলো লিগ্যাল এভিডেন্স, সাবস্ট্যানটিভ এভিডেন্স। অথচ ওই মামলায় ওই কনফেশনটুকু ছাড়া আর কিছুই নাই।’
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিলেই তাদের নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করে নানা গোষ্ঠী। ওই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনাও তখনকার বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলতে ঘটানো হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবু রুশদ জানান, ‘আমি বলব যে, সেই সময়কার সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। তারা ঘটনাগুলোকে কোনো ট্রেসই করতে পারেনি। এই যে বোমার গায়ে মানে লেবেলগুলো, যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল, এগুলোর ছবি আমরা পেয়েছিলাম। যে এগুলো একটি প্রতিবেশী দেশের একটা জায়গা থেকে তৈরি, ঝাড়খণ্ড গোমিয়ার মানে সিগনেচার ছিল। এগুলোতে বোঝা যাচ্ছিল যে কোনো একটা জায়গা থেকে এই জিনিসগুলোকে মানে চালানো হচ্ছে।’
বোমা উদ্ধারের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে ১৭ আগস্টের সমন্বিত হামলার ঘটনার মতো একই ছকে গাঁথা বলেও মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে আছে বড় ক্ষতির শঙ্কা।
প্রিন্ট
























