ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টাইগারদের ঐতিহাসিক জয় Logo গ্যাস সংকট : আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বাছাই আজ Logo সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে মিসরও যোগ দিতে পারে : হাকান ফিদান Logo সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, আমান, ডোনার ও ইসমাইল Logo খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে কড়াইলে দোয়া, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্বরাষ্ট্র ছাড়লেন সালাহউদ্দিন, এলজিআরডির দায়িত্ব পেলেন Logo নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি Logo পরাজয় জেনেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাবতলী টু সদরঘাট ফের চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস : সিদ্ধান্ত সরকার।

ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ১২:১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫১৩ বার পড়া হয়েছে

ওয়াটার বাস

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ ফের চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার এ নৌপথ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

প্রাথমিকভাবে গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কপথের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নতমানের জলযান নিশ্চিত করা গেলে এবার বৃত্তাকার নৌপথ সফল হতে পারে।

কম খরচে যানজটমুক্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যের যাত্রা নিশ্চিত করতে ২০০৪ সালে আশুলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দুটি ছোট লঞ্চ দিয়ে প্রথম ওয়াটার বাস সেবা চালু করা হয়। তবে কিছুদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে একই রুটে আবার দুটি ওয়াটার বাস নামানো হয়। এরপর ২০১৪ সালে দুই ধাপে আরও ১০টি ওয়াটার বাস চালু করা হলেও লোকসানের কারণে ২০১৬ সালে পুরো সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

বৃত্তাকার নৌপথ প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে নৌপথ খনন, ল্যান্ডিং স্টেশন, টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। এর বাইরে ওয়াটার বাস কেনা ও পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ কোটি টাকা খরচ হলেও প্রকল্পটি সফলতার মুখ দেখেনি।

প্রকল্পের ব্যর্থতার চিত্র এখনও দেখা যায় বুড়িগঙ্গার বাদামতলী ঘাটে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে ছয়টি ওয়াটার বাস। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং কোনো একটিরও ফিটনেস নেই। এসব ওয়াটার বাস নিলামে বিক্রির চেষ্টা করছে বিআইডব্লিউটিসি।

এবার নতুন করে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আগের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, নদীদূষণ রোধ, নৌপথের সঙ্গে সড়কপথের কার্যকর সংযোগ তৈরি এবং যাত্রীসেবার প্রচার বাড়ানো গেলে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কয়েক দফা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঢাকা সমন্বিত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সিনিয়র সচিবও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন ত্রুটি ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হচ্ছে।

তবে পুরো বৃত্তাকার নৌপথ চালু করতে গেলে বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব সেতুর উচ্চতা নৌযান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে পুরো নৌপথ চালু করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অতীতে পরিকল্পনার গাফিলতির কারণেই প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছিল। আগের ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত না করে একইভাবে আবার উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না। এবার প্রকল্প শুরুর আগে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। কারণ নতুন করে শত কোটি টাকা লোকসানের সুযোগ নেই।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাবতলী টু সদরঘাট ফের চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস : সিদ্ধান্ত সরকার।

আপডেট সময় ১২:১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ ফের চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার এ নৌপথ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

প্রাথমিকভাবে গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কপথের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নতমানের জলযান নিশ্চিত করা গেলে এবার বৃত্তাকার নৌপথ সফল হতে পারে।

কম খরচে যানজটমুক্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যের যাত্রা নিশ্চিত করতে ২০০৪ সালে আশুলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দুটি ছোট লঞ্চ দিয়ে প্রথম ওয়াটার বাস সেবা চালু করা হয়। তবে কিছুদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে একই রুটে আবার দুটি ওয়াটার বাস নামানো হয়। এরপর ২০১৪ সালে দুই ধাপে আরও ১০টি ওয়াটার বাস চালু করা হলেও লোকসানের কারণে ২০১৬ সালে পুরো সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

বৃত্তাকার নৌপথ প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে নৌপথ খনন, ল্যান্ডিং স্টেশন, টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। এর বাইরে ওয়াটার বাস কেনা ও পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ কোটি টাকা খরচ হলেও প্রকল্পটি সফলতার মুখ দেখেনি।

প্রকল্পের ব্যর্থতার চিত্র এখনও দেখা যায় বুড়িগঙ্গার বাদামতলী ঘাটে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে ছয়টি ওয়াটার বাস। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং কোনো একটিরও ফিটনেস নেই। এসব ওয়াটার বাস নিলামে বিক্রির চেষ্টা করছে বিআইডব্লিউটিসি।

এবার নতুন করে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আগের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, নদীদূষণ রোধ, নৌপথের সঙ্গে সড়কপথের কার্যকর সংযোগ তৈরি এবং যাত্রীসেবার প্রচার বাড়ানো গেলে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কয়েক দফা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঢাকা সমন্বিত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সিনিয়র সচিবও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন ত্রুটি ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হচ্ছে।

তবে পুরো বৃত্তাকার নৌপথ চালু করতে গেলে বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব সেতুর উচ্চতা নৌযান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে পুরো নৌপথ চালু করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অতীতে পরিকল্পনার গাফিলতির কারণেই প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছিল। আগের ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত না করে একইভাবে আবার উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না। এবার প্রকল্প শুরুর আগে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। কারণ নতুন করে শত কোটি টাকা লোকসানের সুযোগ নেই।


প্রিন্ট